অমিত শাহের ডাকে দিল্লি যাওয়ায় ইউসুফকে তীব্র আক্রমণ, তোপ দেগে মহুয়া বললেন ‘লজ্জা থাকা উচিত’! – এবেলা

অমিত শাহের ডাকে দিল্লি যাওয়ায় ইউসুফকে তীব্র আক্রমণ, তোপ দেগে মহুয়া বললেন ‘লজ্জা থাকা উচিত’! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বড়সড় বিদ্রোহের আবহ তৈরি হয়েছে। বহরমপুরের সাংসদ তথা প্রাক্তন ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ডাকে দিল্লি যাচ্ছেন বলে খবর আসতেই তাঁর বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ ইউসুফকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে মহুয়া তাঁর রাজনৈতিক সততা ও সাহসিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

তৃণমূলে নজিরবিহীন ভাঙন ও দিল্লির টান

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেস এক গভীর সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। দলের পঞ্চায়েত, পুরসভা, বিধানসভা এবং সংসদের উভয় কক্ষের একের পর এক সদস্য পদত্যাগ করছেন অথবা দল ছাড়ছেন। এই পরিস্থিতিতে লোকসভায় তৃণমূলের ২৮ জন সাংসদের মধ্যে ২০ জনই একটি আলাদা গোষ্ঠী গঠন করে কেন্দ্রে এনডিএ জোটের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর অন্যতম সদস্য বহরমপুরের সাংসদ ইউসুফ পাঠান। অমিত শাহের ডাকে তাঁর দিল্লি যাত্রা নিয়ে মহুয়া মৈত্র লিখেছেন, ভারতের হয়ে খেলা একজন ক্রিকেটারের এই ধরনের আচরণে লজ্জা থাকা উচিত এবং নিজের শিরদাঁড়া বজায় রাখা উচিত। উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ইউসুফকে পদত্যাগের বার্তা দিয়েছিলেন বলে গুঞ্জন ছড়ালেও পরবর্তীতে সৌরভ ও ইউসুফ দুজনেই তা অস্বীকার করেন।

সংকটে দল এবং মহুয়ার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ

এই নজিরবিহীন বিদ্রোহের কারণে তৃণমূল কংগ্রেসের অস্তিত্বই এখন বড়সড় প্রশ্নের মুখে পড়েছে। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে থাকা অবস্থাতেই এই বিদ্রোহের সূত্রপাত হয়, যা দলের অন্দরে তাঁর নিয়ন্ত্রণ শিথিল হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। খুব কম সংখ্যক বিধায়ক ও সাংসদই এখন দলনেত্রীর পাশে রয়েছেন, যা স্বাভাবিকভাবেই বিরোধী শিবিরকে উল্লসিত করেছে। তবে এই সংকটের মধ্যেও মহুয়া মৈত্র এখনও মমতার পাশে অটল থাকলেও রাজনৈতিক মহলে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস যদি শেষ পর্যন্ত টিকতে না পারে, তবে মহুয়া মৈত্রর কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার একটি জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা রাজ্যের সামগ্রিক রাজনৈতিক সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *