অম্বুবাচীতে বন্ধ কামাখ্যা, তবু কেন খোলা তারাপীঠ? জানলে অবাক হবেন! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বীরভূম: হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী, আষাঢ় মাসের অম্বুবাচী তিথিতে মা ধরিত্রী রজঃস্বলা হন। এই সময়ে হিন্দু বিধবা, সাধু-সন্ন্যাসী থেকে শুরু করে সাধারণ পুণ্যার্থীরা কঠোর আচার-নিয়ম মেনে চলেন। অম্বুবাচীর এই পবিত্র দিনগুলিতে কামাখ্যা-সহ দেশের বেশিরভাগ মন্দির বন্ধ থাকলেও, বীরভূমের তারাপীঠ কিন্তু ভক্তদের জন্য সম্পূর্ণ খোলা থাকে। এর পিছনের আসল কারণটি অনেকেরই অজানা!
কেন অম্বুবাচীতে খোলা থাকে তারাপীঠ?
আসামের কামাখ্যা মন্দিরে এই সময়ে মায়ের গর্ভগৃহ তিন দিন বন্ধ থাকলেও তারাপীঠের রীতি সম্পূর্ণ আলাদা। পুরাণ ও শাস্ত্র মতে, তারাপীঠে দেবী কালীর ‘তারা’ রূপের আরাধনা করা হয়। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, দেবী কালীর এই রূপের ঋতুমতী হওয়ার কোনও বিষয় নেই। সেই কারণেই অম্বুবাচী চলাকালীন তারাপীঠে পুজো, আরতি এবং দর্শনে কোনওরকম বাধা থাকে না।
মায়ের বিশেষ ভোগ ও সাজ:
অম্বুবাচীর দিনগুলিতে মন্দির খোলা থাকলেও মায়ের ভোগ নিবেদনে কিছু পরিবর্তন আসে।
- শীতল ভোগ: এই কয়েকদিন মা তারাকে কোনওরকম অন্ন বা গরম খাবার নিবেদন করা হয় না।
- ফলাহার: অন্নভোগের বদলে আম, কাঁঠাল, দুধ, ছানা এবং মিষ্টি দিয়ে সাজানো বিশেষ ‘শীতল ভোগ’ বা ফলাহার নিবেদন করা হয়।
- বিশেষ সাজ: লাল বেনারসী শাড়ি এবং নানারকম বিশেষ অলংকারে অপরূপ রূপে সাজিয়ে তোলা হয় দেবীকে।
মহাশ্মশানে সাধু-তান্ত্রিকদের ভিড়:
অম্বুবাচী উপলক্ষে কামাখ্যার মতোই তারাপীঠের মহাশ্মশানেও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধু, তান্ত্রিক এবং অঘোরী সন্ন্যাসীদের সমাগম ঘটে। মন্দিরের পাশাপাশি মহাশ্মশানেও দিনরাত এক করে চলে গুপ্ত সাধনা ও বিশেষ তন্ত্র যজ্ঞ।
অম্বুবাচী ২০২৬-এর সময়সূচি:
- প্রবৃত্তি (শুরু): ২২ জুন, সোমবার (রাত ৯টা বেজে ৮ মিনিটে)।
- নিবৃত্তি (শেষ): ২৬ জুন, শুক্রবার (রাত ১০টা বেজে ৫৭ মিনিটে)।
শাস্ত্র মতে, এই চার দিন (২৩ থেকে ২৬ জুন রাত পর্যন্ত) অম্বুবাচীর মূল নিষেধকাল। এই সময়ে কামাখ্যা মন্দিরের দরজা বন্ধ থাকলেও, ২৬ জুন বিশেষ স্নান ও পুজোর পর তা পুনরায় খুলে দেওয়া হয়। তবে তারাপীঠে আগত পুণ্যার্থীরা এই পুরো সময়জুড়েই বিনা বাধায় সিদ্ধপীঠে মায়ের দর্শন ও পুজো দিতে পারবেন।
