অযথা আতঙ্কিত হবেন না, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দেশবাসীকে আশ্বস্ত করলেন রাজনাথ সিং

পশ্চিম এশিয়ার চলমান অস্থিরতায় ভারতের অর্থনীতি ও জ্বালানি ভাণ্ডার নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যখন উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে, ঠিক তখনই ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। সোমবার এক বিশেষ বার্তায় তিনি দেশবাসীকে শান্ত থাকার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর সতর্কবার্তার পর জনমানসে তৈরি হওয়া ভীতি দূর করতেই প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর এই আশ্বাসের বাণী।
সংকট মোকাবিলায় সরকারি তৎপরতা
বিশ্ববাজারে তেলের আকাশছোঁয়া দাম এবং সরবরাহ শৃঙ্খল বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইতিপূর্বেই দেশবাসীকে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ এবং সোনা কেনায় রাশ টানার মতো কড়া পরামর্শ দিয়েছিলেন। সোমবার সেই বার্তার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করে রাজনাথ সিং জানান, এটি আসলে দেশের সম্পদ সংরক্ষণের একটি বৃহত্তর পরিকল্পনা। তাঁর মতে, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এবং ভারতকে জ্বালানি সুরক্ষায় স্বনির্ভর করতে জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণ জরুরি। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজনে যেন কোনোভাবেই টান না পড়ে, তা নিশ্চিত করা।
সরবরাহ বজায় রাখতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক
পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে সোমবারই রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বে ‘ইনফরমাল এমপাওয়ার্ড গ্রুপ অফ মিনিস্টার্স’-এর পঞ্চম বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের ফলে ভারতের জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের জোগানে কী কী প্রভাব পড়তে পারে, তা বিস্তারিত খতিয়ে দেখা হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী দাবি করেছেন, প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বে কেন্দ্র সরকার প্রতিটি পণ্যের জোগান স্বাভাবিক রাখতে সবরকম যান্ত্রিক ও কৌশলগত প্রস্তুতি সেরে রেখেছে। সরবরাহ শৃঙ্খল অটুট রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে সবরকম রক্ষাকবচ তৈরি করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
বাজারদর নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নজর
বিশ্ব রাজনীতির জটিল সমীকরণের মাঝে ভারতের সাধারণ নাগরিকরা যাতে সুরক্ষিত থাকেন এবং বাজারদরের আঁচ যাতে সরাসরি রান্নাঘরে না পৌঁছায়, সরকার এখন সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে। রাজনাথ সিংয়ের এই আশ্বাসবাণী থেকে স্পষ্ট যে, সরকার পর্দার আড়ালে বড়সড় প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। আতঙ্কিত হয়ে পণ্য মজুত না করার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি প্রকারান্তরে দেশবাসীকে সরকারের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। সব মিলিয়ে, বৈশ্বিক সংকটের মুখে দাঁড়িয়েও ভারতের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখাই এখন মোদী সরকারের শীর্ষ অগ্রাধিকার।
