অযোধ্যায় ইরানি নেতার প্রতিনিধি, ভারত মানেই মানবতা!

ভারত-ইরান সম্পর্কের নতুন দিগন্ত: ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝে জ্বালানি নিরাপত্তা ও মানবিক বন্ধন
ভারত ও ইরানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে এক নতুন ও কৌশলগত মাত্রা লাভ করেছে। সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যা সফরকালে ভারতে নিযুক্ত ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধি ড. আব্দুল মজিদ হাকিম ইলাহী ভারতীয়দের মানবিকতা এবং ন্যায়বিচারের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যের চরম অস্থিরতার মাঝে এই সফর এবং ইতিবাচক বার্তা দুই দেশের কূটনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ভারতীয়দের মানবিকতায় মুগ্ধ ইরানি প্রতিনিধি
অযোধ্যায় এক আবেগঘন বিবৃতিতে ড. আব্দুল মজিদ হাকিম ইলাহী জানান, ভারতীয় জনগণের মধ্যে বিদ্যমান দয়া, সততা এবং মানবিক মর্যাদা বিশ্বের অন্য যেকোনো প্রান্তের তুলনায় বিরল। বিশেষ করে নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং ন্যায়বিচারের পক্ষে ভারতীয়দের স্বতঃস্ফূর্ত আবেগে তিনি গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছেন। তার এই মন্তব্য ভারতের ‘বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য’ এবং মানবিক মূল্যবোধের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির প্রতিফলন।
ভূ-রাজনৈতিক সংকট ও ভারতের প্রতি ইরানের আস্থা
ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করলেও ভারতের সঙ্গে ইরানের বাণিজ্যিক ও কৌশলগত যোগাযোগ অবিচল রয়েছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম এবং সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের এই সময়ে ইরান ভারতকে বিশেষ নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছে।
- হরমোজ প্রণালীতে নিরাপত্তা: বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেলের রুট ‘হরমোজ প্রণালী’ নিয়ে উত্তেজনার মাঝেও ইরান নিশ্চিত করেছে যে, ভারতীয় জাহাজগুলো এই পথ দিয়ে নিরাপদ যাতায়াত করতে পারবে।
- ভারতকে অগ্রাধিকার: আমেরিকার অবরোধ পরিকল্পনার হুমকি থাকা সত্ত্বেও ভারতীয় জাহাজের জন্য নিরাপদ করিডোর দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দুই দেশের পারস্পরিক গভীর আস্থার প্রমাণ।
হরমোজ প্রণালীর গুরুত্ব ও ভারতের অর্থনৈতিক স্বার্থ
বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয় হরমোজ প্রণালী দিয়ে। ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য এই রুটের গুরুত্ব অপরিসীম, কারণ:
- ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রায় ৪০ শতাংশ এই পথ দিয়েই আসে।
- এই পথে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হলে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা সরাসরি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
- ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া নিরাপত্তার নিশ্চয়তা ভারতের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ও স্বস্তি বয়ে আনবে।
শান্তিপ্রক্রিয়া ও পশ্চিমা শক্তির ভূমিকা
শান্তি আলোচনা এবং যুদ্ধবিরতি প্রসঙ্গে ড. আব্দুল মজিদ পশ্চিমা শক্তির তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, মধ্যস্থতাকারীদের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে শুরু থেকেই সন্দেহ ছিল। তার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, একটি নির্দিষ্ট পক্ষ শান্তি আলোচনার আড়ালে নিজেদের সিদ্ধান্ত অন্যদের ওপর চাপিয়ে দিতে চায়, যা দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পথে প্রধান অন্তরায়।
এক ঝলকে
- অযোধ্যায় দাঁড়িয়ে ভারতীয়দের সততা ও মানবিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ইরানি প্রতিনিধি ড. আব্দুল মজিদ।
- ন্যায়বিচারের প্রতি ভারতীয়দের শ্রদ্ধা ও আবেগের জন্য ইরানি সরকার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।
- আমেরিকার অবরোধ হুমকির মাঝেও হরমোজ প্রণালীতে ভারতীয় জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইরান।
- ভারতের মোট তেল আমদানির ৪০ শতাংশ এই রুটের ওপর নির্ভরশীল, তাই ইরানের এই আশ্বাস ভারতের জ্বালানি সংকট এড়াতে সাহায্য করবে।
- পশ্চিমা বিশ্বের শান্তি আলোচনার সদিচ্ছা এবং মধ্যস্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ইরানি প্রতিনিধি।
