অর্ধশতাব্দীর অন্ধকার কাটিয়ে অবশেষে ঘরে আলো, ‘দাদা কথা রেখেছেন’—বললেন বৃষ্টি – এবেলা

অর্ধশতাব্দীর অন্ধকার কাটিয়ে অবশেষে ঘরে আলো, ‘দাদা কথা রেখেছেন’—বললেন বৃষ্টি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

অর্ধশতাব্দীর অন্ধকার ঘুচিয়ে অবশেষে আলোয় ফিরল উত্তর দমদমের বৃষ্টিদের ঘর

বিমানবন্দরের অদূরে উত্তর দমদম পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের গ্লোব নার্সারি এলাকায় যে অন্ধকার গত ৫০ বছর ধরে স্থায়ী ছিল, অবসান ঘটল তার। দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার পরেও যে পরিবার বিদ্যুৎ সংযোগ পায়নি, স্থানীয় বিধায়কের উদ্যোগে অবশেষে সেই বাড়িতে জ্বলল বৈদ্যুতিক আলো। পরিবারের নাতনি বৃষ্টি মণ্ডলের কণ্ঠে ঝরল স্বস্তির সুর, তিনি জানালেন, দাদা কথা রেখেছেন।

অবহেলার দীর্ঘ অধ্যায়

জন্মলগ্ন থেকে বিদ্যুৎহীন বাড়িতেই বড় হয়েছেন বৃষ্টি মণ্ডল। কেরোসিনের কুপি বা মোমবাতির আলোয় পড়াশোনা চালিয়ে তিনি আজ স্বাবলম্বী। পরিবারের অভিযোগ, গত কয়েক দশকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও মিলেনি সুরাহা। উল্টো আত্মীয়দের বাধার মুখে পড়ে বছরের পর বছর অন্ধকারে কাটাতে হয়েছে তাঁদের। গৃহকর্মীর কাজ করে সংসার চালানো নাতনি ও দিদিমা আরতি মণ্ডলের জীবনে বিদ্যুৎ ছিল এক দূরতম স্বপ্ন। বৃষ্টি জানান, গরিব বলেই তাঁদের বারবার ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক।

প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবের মিলন

নির্বাচনী প্রচারের সময় এই পরিবারের সমস্যার কথা জানতে পারেন স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক সৌরভ শিকদার। তখনই তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, পরিস্থিতি বদলালে তাঁদের ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেবেন। বিধায়ক সেই কথা রেখেছেন। শনিবার বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়ার পর আবেগাপ্লুত আরতি দেবী বিধায়ককে জড়িয়ে ধরেন। বিধায়ক সৌরভ শিকদার জানান, বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকার কাছে অর্ধশতাব্দী ধরে একটি পরিবারের বিদ্যুৎহীন থাকা যেকোনো সরকারের জন্য লজ্জাজনক। বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর নজরে আনা হলে তাঁর নির্দেশে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এই বিদ্যুৎ সংযোগ কেবল একটি পরিবারের অন্ধকার দূর করেনি, বরং বছরের পর বছর জমে থাকা বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে এক নতুন আশার আলো সঞ্চার করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *