অষ্টম বেতন কমিশনে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ২.২৮ হলেও একলাফে বাড়বে বেতন, জেনে নিন হিসাব – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
অষ্টম বেতন কমিশন নিয়ে দেশজুড়ে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের মধ্যে আলোচনা এখন তুঙ্গে। এই আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ‘ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর’। এটি এমন একটি গাণিতিক গুণক, যা কর্মচারীদের পূর্ববর্তী মূল বেতনের সাথে গুণ করে নতুন ও সংশোধিত বেতন কাঠামো নির্ধারণ করে। সাধারণত প্রতি দশকে মাত্র একবার এই ধরনের বেতন সংশোধন করা হয়ে থাকে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ১.১ কোটিরও বেশি কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী, পেনশনভোগী এবং তাঁদের পরিবারবর্গের চোখ এখন এই নতুন বেতন কাঠামোর দিকে।
ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর এবং বেতন বৃদ্ধির হিসাব
ষষ্ঠ এবং সপ্তম বেতন কমিশনের সময় থেকেই মূলত এই ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের ধারণাটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এর আগে গঠিত প্রথম পাঁচটি বেতন কমিশন বেতন সংশোধনের ক্ষেত্রে বেতনের যৌক্তিকীকরণ, মহার্ঘ ভাতার সংযুক্তি এবং প্রয়োজন-ভিত্তিক বেতন গণনার মতো জটিল পদ্ধতি অনুসরণ করত। বর্তমানে ব্যবহৃত মূল সূত্রটি হলো, বর্তমান মূল বেতনকে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর দিয়ে গুণ করে নতুন মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, সপ্তম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশন ২.৫৭ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর কার্যকর করায় ন্যূনতম মূল বেতন ৭,০০০ টাকা থেকে একলাফে বেড়ে ১৮,০০০ টাকা হয়েছিল।
অষ্টম বেতন কমিশনের জন্য ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরটি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত করা হয়নি। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী ধারণা করা হচ্ছে, এই গুণকটির মান ২.২৮ থেকে ৩.৮৩-এর মধ্যে যেকোনো একটি সংখ্যা হতে পারে। যদি এই ফ্যাক্টর সর্বনিম্ন ২.২৮-ও রাখা হয়, তাহলেও কর্মচারীদের অ্যাকাউন্টে আগের তুলনায় মোটা অঙ্কের টাকা ঢুকবে। এই গুণকটিতে যেকোনো পরিবর্তন সরাসরি কর্মচারীদের মূল বেতন, পেনশন, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট এবং সংশ্লিষ্ট বকেয়া অর্থের ওপর বড় প্রভাব ফেলবে।
অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব
ভারতে সাধারণত প্রতি ১০ বছর অন্তর নতুন বেতন কমিশন গঠন করা হয়ে থাকে। ১৯৪৬ সালের জানুয়ারি মাসে দেশে প্রথম বেতন কমিশন গঠিত হয়েছিল এবং সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর অষ্টম বেতন কমিশন গঠন করা হয়। এই কমিশনের মূল উদ্দেশ্য হলো বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মূল্যস্ফীতি এবং প্রশাসনিক চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি বেতনের কাঠামোকে পুনর্গঠন করা। ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর চূড়ান্ত হওয়ার পর নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হলে তা কোটি মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
