আসামে ভেঙে পড়ল বায়ুসেনার বিমান, মৃত ৫ পাইলট! একের পর এক দুর্ঘটনা, তবুও কেন এই জেটেই ভরসা ভারতের? – এবেলা

অসমে ভেঙে পড়ল বায়ুসেনার বিমান, মৃত ৫ পাইলট! একের পর এক দুর্ঘটনা, তবুও কেন এই জেটেই ভরসা ভারতের? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

নয়াদিল্লি: শনিবার সকালে আসামের জোরহাটে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল দেশ। রৌরেয়া বিমানঘাঁটির কাছে অবতরণের ঠিক আগের মুহূর্তে ভেঙে পড়ল ভারতীয় বায়ুসেনার একটি আন্তোনভ এএন-৩২ (AN-32) জেট। ল্যান্ডিংয়ের সময়েই দুর্ঘটনাটি ঘটে এবং মুহূর্তের মধ্যে বিমানটিতে দাউদাউ করে আগুন ধরে যায়। দমকল বাহিনী দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। দুর্ঘটনায় ভারতীয় বায়ুসেনার ৫ জন বীর পাইলট প্রাণ হারিয়েছেন।

তবে এই প্রথম নয়, এর আগেও বহুবার দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে AN-32 জেট। তার ট্র্যাকরেকর্ড বেশ উদ্বেগজনক হওয়া সত্ত্বেও কেন এই জেটটিকেই বায়ুসেনার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য এবং প্রধান ‘ওয়ার্কহর্স’ বা ‘উড়ন্ত কর্মী’ বলা হয়? এর পেছনে রয়েছে কিছু বিস্ময়কর কারণ।

কেন ভারতীয় বায়ুসেনার প্রধান ভরসা এই AN-32?

  • চরম আবহাওয়াতেও অপ্রতিরোধ্য: এই বিমানটি কোনও সাধারণ জেট নয়। মাইনাস ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের হাড়কাঁপানো ঠান্ডা থেকে শুরু করে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের চরম গরমেও এটি সমান দক্ষতায় উড়তে পারে।
  • দুর্গম পাহাড়ি এলাকার রক্ষাকর্তা: সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪,৫০০ মিটার উঁচুতে, যেখানে অক্সিজেনের মাত্রা অত্যন্ত কম, সেখানেও অনায়াসে বুক চিতিয়ে কাজ করতে পারে এই সোভিয়েত জমানার জেটটি।
  • ছোট রানওয়ে ও ভারী ওজন বহনে ওস্তাদ: ছোট রানওয়ে থেকেও এটি ভারী রসদ নিয়ে টেক-অফ করতে পারে। প্রায় ৬.৭ থেকে ৭.৫ টন পর্যন্ত সামরিক সরঞ্জাম এবং একই সাথে ৪০-৫০ জন সেনা বা প্যারাট্রুপার বহনে সক্ষম এই বিমান।
  • গতি ও রেঞ্জ: একবার জ্বালানি ভরলে এই বিমানটি টানা ২,৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত উড়তে পারে। এর সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় প্রায় ৫৩০ কিলোমিটার।

১৯৮৪ সালে ইউক্রেনের কিভ শহরে নির্মিত এই অ্যানতোনভ (Antonov) বিমানটি ভারতীয় বায়ুসেনায় অন্তর্ভুক্ত হয়। সামরিক পরিবহণ, যুদ্ধক্ষেত্র থেকে আহত সেনাদের উদ্ধার (Medical Evacuation), কিংবা দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ত্রাণ ও রসদ পৌঁছানো—সবক্ষেত্রেই এটি ভারতের প্রধান স্তম্ভ। শুধু ভারতই নয়, বাংলাদেশ, ইউক্রেন, পেরু ও শ্রীলঙ্কার মতো একাধিক দেশ এই বিমাণের শক্তির ওপর ভরসা করে। আজ আসামে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনাটি বায়ুসেনার জন্য এক বড় ধাক্কা হলেও, দুর্গম রণক্ষেত্রে এই জেটের বিকল্প খুঁজে পাওয়া সত্যিই কঠিন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *