অস্থায়ী তৃণমূল ভবন নিয়ে চরম টানাপোড়েন, বাড়ি খালি করতে সময় চাইল দল! – এবেলা

অস্থায়ী তৃণমূল ভবন নিয়ে চরম টানাপোড়েন, বাড়ি খালি করতে সময় চাইল দল! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

মেট্রোপলিটনের অস্থায়ী ‘তৃণমূল ভবন’ ঘিরে তৈরি হওয়া জটিলতা এবার নতুন মোড় নিল। দীর্ঘদিন ধরে দলীয় কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত এই ভবনটি ফেরত চেয়ে মালিকপক্ষের ক্রমাগত চাপের মুখে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল তৃণমূল। সোমবার প্রগতি ময়দান থানায় গিয়ে বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ এবং দলের নবনিযুক্ত রাজ্য সভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য জানান, বাড়ি ভাড়ার সর্বশেষ এক লক্ষ টাকার চেক ইতিমধ্যেই মালিকপক্ষকে দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে কার্যালয় সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। তবে এত বড় একটি সংগঠনের পরিকাঠামো স্থানান্তরের জন্য কিছুটা সময়ের প্রয়োজন, তাই বিষয়টি নিয়ে তাড়াহুড়ো না করার আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা।

মালিকপক্ষের ক্ষোভ ও অভিযোগ

ভবনের মালিক মন্টু সাহা এবং তাঁর ছেলে অমিত সাহার অভিযোগ, বাড়িটির যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ হচ্ছে না এবং নিজেদের ব্যবসার প্রয়োজনেই সেটি এখন ফেরত দরকার। এর পাশাপাশি মন্টু সাহা দলের বিরুদ্ধে আর্থিক বঞ্চনার গুরুতর অভিযোগও তুলেছেন। তাঁর দাবি, চল্লিশ লক্ষ টাকার ইফতার পার্টির বকেয়া মেটানো হয়নি এবং বহু কাজ বিনামূল্যে করিয়ে নেওয়া হয়েছে। রবিবার নিজেদের কার্যালয়ে গিয়ে নেতাদের সঙ্গে দেখা করতে না পেরে থানায় জিডি করার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তাঁরা। মালিকপক্ষের এই অনড় অবস্থানের কারণেই তৃণমূল নেতৃত্বকে তড়িঘড়ি থানায় গিয়ে নিজেদের বক্তব্য জানাতে হয়েছে।

সময়ের ফেরে বদলে যাওয়া সমীকরণ

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর তপসিয়ার পুরনো তৃণমূল ভবনের কাজ শুরু হলে এই বহুতলে অস্থায়ী কার্যালয় স্থানান্তরিত করা হয়। একসময় দলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত মন্টু সাহা এই বাড়িটি ব্যবহারের জন্য দিয়েছিলেন। বিরোধীদের দাবি, সে সময় বিভিন্ন সরকারি কাজের বরাত পাওয়ার বিনিময়েই এই সুবিধা পেয়েছিল তৃণমূল। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দল ক্ষমতা থেকে সরতেই সেই পুরনো সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে। এই ঘটনা একদিকে যেমন দলের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে তৈরি হওয়া দূরত্বের ইঙ্গিত দিচ্ছে, তেমনই অস্থায়ী কার্যালয় দ্রুত খালি করার চাপের ফলে দলের অন্দরে একটি বড় ধরনের পরিকাঠামোগত ও সাংগঠনিক সমস্যা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *