অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও ঘুমের অভাব ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে, এই লক্ষণগুলো দেখলেই পরীক্ষা করিয়ে নিন – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ক্যান্সারের প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। পুরুষদের মধ্যে ফুসফুস এবং নারীদের ক্ষেত্রে স্তন ও জরায়ুমুখের ক্যান্সারের বিস্তার এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, জিনগত কারণ ছাড়া ক্যান্সারের প্রধান উৎস হলো আমাদের দৈনন্দিন অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রা। তামাক ও ধূমপান সরাসরি মুখ, গলা ও ফুসফুসের ক্যান্সারের জন্য দায়ী হলেও বর্তমানে পরোক্ষ ধূমপানও আশেপাশের মানুষের জন্য সমান বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
খাদ্যাভ্যাসে আধুনিকতার মরণফাঁদ খাদ্যতালিকায় প্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেটজাত খাবারের আধিক্য ক্যান্সারের ঝুঁকি কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। এসব খাবারে থাকা অতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ, কেমিক্যাল ও চিনি শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে। এছাড়া অনলাইন থেকে কেনা খাবার গরম প্লাস্টিকের পাত্রে সরবরাহ করার ফলে ক্ষতিকারক রাসায়নিক খাবারের সাথে মিশে শরীরে প্রবেশ করছে। বারবার ভাজা তেল বা পোড়া খাবার গ্রহণও দীর্ঘমেয়াদে মরণব্যাধির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব ও মানসিক চাপ দীর্ঘ সময় মোবাইল বা ল্যাপটপের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা এবং গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকার ফলে শরীরের প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে কোষের স্বাভাবিক মেরামত প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। এর পাশাপাশি অনিয়ন্ত্রিত মানসিক চাপ ও কায়িক পরিশ্রমের অভাব স্থূলতা বাড়িয়ে তুলছে, যা ক্যান্সারের অন্যতম অনুঘটক। সূর্যালোক থেকে দূরে থাকা এবং সারাক্ষণ বসে কাজ করার প্রবণতাও স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
অকারণে দ্রুত ওজন কমে যাওয়া, শরীরে দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি, কোনো অঙ্গে চাকা বা পিণ্ড দেখা দেওয়া এবং দীর্ঘদিনের ব্যথা ক্যান্সারের প্রাথমিক উপসর্গ হতে পারে। এসব লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই পারে এই প্রাণঘাতী ব্যাধি থেকে মুক্তি দিতে।
এক ঝলকে
- প্রক্রিয়াজাত খাবার ও প্লাস্টিকের পাত্রে গরম খাবার গ্রহণ ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
- অনিদ্রা, মানসিক চাপ এবং কায়িক পরিশ্রমের অভাব শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে।
- তামাক ও ধূমপানের পাশাপাশি পরোক্ষ ধূমপানও সমানভাবে বিপজ্জনক।
- ওজন হ্রাস বা শরীরে ব্যথাহীন কোনো পিণ্ড দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।
