অ্যামাজনের লোভনীয় চাকরি ছেড়ে উবার চালক, ১২ বছর পর ভাইরাল হায়দরাবাদের কুমারের অনুপ্রেরণার গল্প – এবেলা

অ্যামাজনের লোভনীয় চাকরি ছেড়ে উবার চালক, ১২ বছর পর ভাইরাল হায়দরাবাদের কুমারের অনুপ্রেরণার গল্প – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কর্পোরেট চাকরির ধরাবাঁধা জীবন এবং মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পেতে অনেকেই বিকল্প ক্যারিয়ারের স্বপ্ন দেখেন, তবে সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার সাহস দেখান খুব কম মানুষই। সমাজের তৈরি করা সাফল্যের চেনা ছক ভেঙে এক যুগ আগে এক ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন হায়দরাবাদের যুবক কুমার। এক সময়ের নামী বহুজাতিক সংস্থা অ্যামাজনের চাকরি ছেড়ে ২০১৪ সালে তিনি যোগ দেন উবার চালক হিসেবে। ১২ বছর পর আজ চালকের আসনেই অত্যন্ত সুখী ও সন্তুষ্ট কুমার, যা বর্তমান প্রজন্মের কাছে এক বড় চমক।

সম্প্রতি চেতনা সিং নামের এক সফটওয়্যার ডেভেলপার সোশ্যাল মিডিয়ায় কুমারের সঙ্গে তাঁর কথোপকথনের একটি ভিডিও শেয়ার করেন। মুহূর্তের মধ্যে নেটদুনিয়ায় ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিওটি কর্পোরেট সংস্কৃতি ও জীবনের আসল সুখ নিয়ে নতুন এক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

স্বাধীনতার খোঁজে কর্পোরেট বিদায়

২০১৪ সালে উবার যখন হায়দরাবাদে নতুন পরিষেবা শুরু করে, কুমার তখনই তাঁর অ্যামাজনের চাকরি জীবনের ইতি টানেন। তাঁর কাছে উবার চালানো কেবল জীবিকা উপার্জনের মাধ্যম নয়, বরং নিজের শহরকে চেনা এবং প্রতিদিন নতুন নতুন মানুষের মুখোমুখি হওয়ার এক দারুণ সুযোগ। কুমার জানান, নিজের শহরের প্রতিটি গলি ঘুরে দেখা এবং প্রতিদিন ভিন্ন ভিন্ন মানুষের জীবনের গল্প শোনার যে আনন্দ, তা চার দেয়ালের কর্পোরেট বন্দিজীবনে পাওয়া আসাম্ভব। গত এক দশকে ২৩ হাজার ৬০০টিরও বেশি ট্রিপ সম্পূর্ণ করা এই চালক এখনও প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সমঅধিনায়কত্বে নিজের কাজ উপভোগ করেন।

সামাজিক চাপ বনাম আত্মতৃপ্তি

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে সাধারণত বহুজাতিক সংস্থার চাকরি ছেড়ে গাড়ি চালানোকে সামাজিকভাবে সহজভাবে নেওয়া হয় না। চেতনা সিং তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেছেন যে, ভারতে সামাজিক চাপ ও পারিবারিক দায়িত্বের কারণে অধিকাংশ মানুষই নিজের ইচ্ছা বা স্বপ্নকে বিসর্জন দিতে বাধ্য হন। সেই জায়গায় কুমারের এই দীর্ঘ পথচলা সমাজের প্রচলিত ‘সাফল্য’ ও ‘মর্যাদা’র সংজ্ঞাকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। নেটিজেনদের একাংশ মনে করছেন, কুমার ভিড়ের অংশ না হয়ে নিজের পছন্দের পথ তৈরি করেছেন। এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, মানসিক শান্তি ও কাজের প্রতি ভালোবাসাই জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য হওয়া উচিত। কুমারের এই যাপন অনেকের ভেতরের সুপ্ত স্বপ্ন ও হারিয়ে যাওয়া ইচ্ছাকে নতুন করে জাগিয়ে তুলছে এবং কর্পোরেট দুনিয়ার ইঁদুরদৌড়ে ক্লান্ত পেশাদারদের দিচ্ছে এক ভিন্ন জীবনের দিশা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *