আইএএস অফিসারের বেতনকেও হার মানালেন আম্বানির রাঁধুনি! কত বেতন তাঁর?

আইএএস অফিসারের সমান বেতন! মুকেশ আম্বানির বাড়ির রুটি প্রস্তুতকারকদের আয়ের নেপথ্যে আসল রহস্য
ভারতের শীর্ষ ধনী মুকেশ আম্বানির জীবনযাপন বরাবরই জাঁকজমকপূর্ণ। মুম্বইয়ের ২৭ তলা বিশিষ্ট বাসভবন ‘অ্যান্টিলিয়া’-র আভিজাত্য বিশ্ববিখ্যাত। তবে সম্প্রতি এই রাজকীয় প্রাসাদের অন্তরালে থাকা কর্মীদের, বিশেষ করে রুটি প্রস্তুতকারক শেফদের বিপুল বেতন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অবাক করার মতো বিষয় হলো, এই বাড়ির শেফদের মাসিক আয় অনেক উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তার বেতনের চেয়েও বেশি।
সাধারণ খাদ্যাভ্যাস ও কঠোর শৃঙ্খলা
বিপুল ঐশ্বর্যের মালিক হওয়া সত্ত্বেও মুকেশ আম্বানি এবং নীতা আম্বানির ব্যক্তিগত জীবন অত্যন্ত শৃঙ্খলিত। তাঁরা দুজনই নিরামিষভোজী। মুকেশ আম্বানি বিলাসবহুল খাবারের চেয়ে ঘরোয়া খাবার বেশি পছন্দ করেন। তাঁর প্রিয় তালিকায় রয়েছে ডাল, ভাত এবং রুটি। এছাড়া প্রতি রবিবার ইডলি সাম্বার খাওয়া তাঁর পছন্দের তালিকায় শীর্ষে। তবে মেনু সাধারণ হলেও, এই খাবার প্রস্তুত করার প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত পেশাদার এবং উন্নত মানের।
বিপুল বেতনের কারণ ও যোগ্যতার মাপকাঠি
অ্যান্টিলিয়াতে রুটি প্রস্তুতকারকদের মাসিক বেতন প্রায় ২ লক্ষ টাকা, যা বছরে ২৪ লক্ষ টাকারও বেশি। এই বেতন একজন আইএএস (IAS) অফিসারের বেতনের সমতুল্য বা ক্ষেত্রবিশেষে তার চেয়েও বেশি। তবে এই উচ্চবেতনের পেছনে রয়েছে নির্দিষ্ট কিছু কারণ ও কঠোর শর্ত:
- পেশাগত ডিগ্রি: এখানে সাধারণ কোনো রাঁধুনি নিয়োগ করা হয় না। রুটি তৈরির দায়িত্ব পান তাঁরাই, যাঁদের হোটেল ম্যানেজমেন্টে উচ্চতর ডিগ্রি রয়েছে।
- কাজের বিশাল চাপ: আম্বানি পরিবারের সদস্য ছাড়াও সেখানে কর্মরত ৬০০ জন কর্মী এবং প্রতিদিন আসা অতিথিদের জন্য প্রায় ৪০০০টি রুটি তৈরি করতে হয়।
- অনুষ্ঠানমন্ডলীর মতো ব্যবস্থাপনা: প্রতিদিনের রান্নার পরিমাণ এবং কারুকাজ কোনো বড় অনুষ্ঠানের সমান। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ নিখুঁতভাবে সামলানোর কারণেই তাঁদের দক্ষ পেশাদার হিসেবে গণ্য করে উচ্চ বেতন দেওয়া হয়।
কর্মীদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা
১৫ হাজার কোটি টাকা মূল্যের এই প্রাসাদে কর্মীদের প্রতি মুকেশ আম্বানির বিশেষ যত্ন দেখা যায়। কর্মীদের জন্য বাসভবনের একটি নির্দিষ্ট তলা বরাদ্দ করা হয়েছে, যেখানে তাঁরা উৎসবের আমেজে একত্রে সময় কাটান ও খাবার খান। কর্মীদের জন্য পৃথক রান্নাঘরের ব্যবস্থা রয়েছে এবং প্রতিদিন তাঁদের বিনামূল্যে উন্নত মানের খাবার পরিবেশন করা হয়। নির্দিষ্ট সময়ে খাবারের গুণমান বজায় রেখে তা পরিবেশন করাই হলো এখানকার শেফদের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
এক ঝলকে
- মাসিক বেতন: আম্বানি পরিবারের রুটি প্রস্তুতকারকদের বেতন প্রায় ২ লক্ষ টাকা।
- দৈনিক উৎপাদন: প্রতিদিন প্রায় ৪০০০টি রুটি তৈরি করা হয়।
- যোগ্যতা: শেফদের জন্য হোটেল ম্যানেজমেন্ট ডিগ্রি বাধ্যতামূলক।
- কর্মী সংখ্যা: অ্যান্টিলিয়াতে মোট ৬০০ জন কর্মী নিয়োজিত।
- বিশেষ সুবিধা: কর্মীদের জন্য আলাদা তলা এবং পৃথক রান্নাঘরের ব্যবস্থা রয়েছে।
