আইনজীবী বনাম রাজনৈতিক মতাদর্শ, সামাজিক সেন্টিমেন্ট উড়িয়ে বিকাশ ভট্টাচার্যের ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়িকা অদিতি মুন্সি ও তাঁর স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তীর হয়ে কলকাতা হাইকোর্টে সওয়াল করার পর থেকেই তীব্র বিতর্কের মুখে পড়েছেন প্রবীণ বাম নেতা তথা আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। দলীয় কর্মীদের একাংশের ক্ষোভ এবং রাজনৈতিক মহলে চলা তুমুল জল্পনার মাঝেই এবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করলেন তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, নাম না করে নিজের আইনি লড়াইয়ের পেশাদারিত্বের পক্ষেই এক প্রকার সাফাই দিতে চেয়েছেন এই বর্ষীয়ান আইনজীবী।
আদালতে পেশাদারিত্ব বনাম রাজনৈতিক ক্ষোভ
বিতর্কের সূত্রপাত রাজারহাট-গোপালপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়িকা অদিতি মুন্সির একটি মামলাকে কেন্দ্র করে। বিজেপির বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারির অভিযোগ ছিল, অদিতি মুন্সি তাঁর নির্বাচনী হলফনামায় বিপুল সম্পত্তির হিসাব ও জমি বিক্রির সঠিক তথ্য গোপন করেছেন। এই মামলায় অদিতির পক্ষে আদালতে দাঁড়ান বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। আর তাতেই ক্ষুব্ধ হন বাম কর্মীদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, যে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে তাঁদের দীর্ঘ লড়াই, আদালতের চৌকাঠে দাঁড়িয়ে তাঁদের হয়েই কেন সওয়াল করলেন দলের এত বড় মাপের একজন নেতা?
ইতিহাসের আশ্রয় এবং সামাজিক সেন্টিমেন্টের জবাব
তীব্র সমালোচনার জবাবে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও, সোশ্যাল মিডিয়ায় আমেরিকার এক বিখ্যাত আইনজীবীর জীবনকাহিনীর অবতারণা করেছেন বিকাশ ভট্টাচার্য। তিনি উল্লেখ করেছেন কীভাবে সেই আইনজীবী সামাজিক সেন্টিমেন্টের তোয়াক্কা না করে, চার্লস ডারউইনের তত্ত্ব পড়ানোর অপরাধে ছাঁটাই হওয়া শিক্ষকের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন এবং বাইবেলের অসারতা প্রমাণ করেছিলেন। এমনকি ন্যায়বিচারের স্বার্থে এক জঘন্য খুনির হয়ে সওয়াল করায় সংবাদমাধ্যমের কুৎসার শিকার হতে হয়েছিল তাঁকে। এই উদাহরণের মাধ্যমে বিকাশ ভট্টাচার্য মূলত এটিই বোঝাতে চেয়েছেন যে, আদালতের ভেতরে সামাজিক আবেগ বা রাজনৈতিক মতাদর্শ নয়, বরং আইন ও যুক্তিটাই শেষ কথা।
সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব
এই ঘটনাটি রাজনৈতিক মহলে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। পেশাদার আইনজীবী হিসেবে যেকোনো নাগরিকের আইনি অধিকার রক্ষা করা তাঁর কর্তব্য হলেও, দলীয় কর্মীদের আবেগে এতে বড় ধাক্কা লেগেছে। বিকাশ ভট্টাচার্যের এই অনড় অবস্থান একদিকে যেমন আইনজীবীদের পেশাগত স্বাধীনতার বিষয়টিকে সামনে এনেছে, অন্যদিকে মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
