আঘাত করলে প্রত্যাঘাত নিশ্চিত! ভারতীয় নৌসেনার বিশাল প্রস্তুতি, গোলাবর্ষণের পর এবার কী হতে চলেছে? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ইরান এবং আমেরিকা-ইসরায়েল সংঘাতের জেরে বর্তমানে রণক্ষেত্রের রূপ নিয়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হোরমুজ প্রণালী। সম্প্রতি ইরানি বাহিনীর গুলিবর্ষণ এবং জাহাজ জব্দের ঘটনায় বিশ্ববাণিজ্য ও নৌ-নিরাপত্তা সংকটের মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় নৌসেনা প্রধান অ্যাডমিরাল ডিকে ত্রিপাঠি ভারতের নতুন ‘সামুদ্রিক নিরাপত্তা কৌশল’ প্রকাশ্যে এনেছেন, যেখানে হোরমুজ প্রণালীকে ভারতের প্রাথমিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট এলাকা বা ‘প্রাইমারি এরিয়া অফ ইন্টারেস্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ভারতের এই অনমনীয় অবস্থান স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, সমুদ্রপথে কোনো উস্কানি বা বাধা বরদাস্ত করা হবে না।
সঙ্কট ও ভারতীয় স্বার্থ
গত ১৮ এপ্রিল হোরমুজ প্রণালী অতিক্রম করার সময় দুটি ভারতীয় জাহাজকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে ইরানি রক্ষীবাহিনী, যার ফলে জাহাজ দুটি ফিরে আসতে বাধ্য হয়। বর্তমানে পারস্য উপসাগরে আরও ১৪টি ভারতীয় জাহাজ আটকা পড়ে আছে। এই জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ভারতীয় নাবিকদের সুরক্ষিত রাখতে হোরমুজ প্রণালীর আশেপাশে ভারতীয় নৌবাহিনীর ৭টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে। নৌসেনার বিশেষ নজরদারিতে ইতিমধ্যেই ১০টি জাহাজ নিরাপদে ভারতীয় জলসীমায় ফিরে আসতে সক্ষম হয়েছে।
বৈশ্বিক প্রভাব ও ভারতের প্রস্তুতি
হোরমুজ প্রণালী শুধু ভারতের জন্য নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য একটি অন্যতম ‘চোক পয়েন্ট’। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের ক্রমবর্ধমান সক্রিয়তা এবং বিদেশি জাহাজ আটকের ঘটনা ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অস্থিরতা তৈরি করছে। এমতাবস্থায় ভারত কেবল হোরমুজ নয়, বরং মালাক্কা প্রণালী থেকে শুরু করে সুয়েজ খাল পর্যন্ত প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের ওপর নজরদারি বাড়িয়ে দিয়েছে। ভারতের এই সক্রিয় অবস্থান মূলত সমুদ্রপথে নিরবচ্ছিন্ন বাণিজ্য বজায় রাখা এবং নিজ দেশের নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার একটি বড় কূটনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপ।
এক ঝলকে
- হোরমুজ প্রণালীকে ভারতীয় নৌসেনার নতুন নিরাপত্তা কৌশলে ‘প্রাথমিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
- পারস্য উপসাগরে আটকে পড়া ১৪টি ভারতীয় জাহাজের নিরাপত্তায় ৭টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে ভারত।
- গত সপ্তাহে ইরানি বাহিনীর গুলিবর্ষণের পর ওই এলাকায় সব ধরনের ভারতীয় জাহাজ চলাচল সাময়িকভাবে থমকে গেছে।
- ভারত মহাসাগরের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুটগুলোতে আধিপত্য বজায় রাখতে নৌ-তৎপরতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
