আজ জামাইষষ্ঠী! পেটপুজোর আগে জেনে নিন শুভ তিথি ও পুজোর সঠিক নিয়ম – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ়ের প্যাচপ্যাচে গরম আর দাবদাহের মাঝেই বাঙালির ঘরে ঘরে আজ উৎসবের আমেজ। ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টে আবারও হাজির শাশুড়ি-জামাইদের বছরের সবচেয়ে প্রিয় দিন— ‘জামাইষষ্ঠী’। মেয়ে ও জামাইয়ের মঙ্গল কামনা এবং তাঁদের দাম্পত্য জীবন সুখের করতে শাশুড়ি মায়েরা নিষ্ঠাভরে এই ব্রত পালন করেন।
কেবল এলাহি ভূরিভোজ বা উপহার দেওয়াই নয়, হিন্দু বাঙালি পরিবারে এই দিনটির এক বিশেষ ঐতিহ্য ও গুরুত্ব রয়েছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, এবারের জামাইষষ্ঠীর সঠিক তিথি এবং নিয়মকানুন।
জামাইষষ্ঠীর শুভ তিথি ও নির্ঘণ্ট (২০২৬)
এবছর ২০ জুন (শনিবার) অর্থাৎ বাংলার ৫ আষাঢ় জামাইষষ্ঠী পালিত হচ্ছে। পঞ্জিকাভেদে তিথির কিছুটা পার্থক্য রয়েছে:
- বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত মতে: ষষ্ঠী তিথি শুরু হয়েছে ১৯ জুন (শুক্রবার) বিকেল ৫টা ১ মিনিটে এবং শেষ হবে ২০ জুন (শনিবার) দুপুর ৩টে ৪৭ মিনিটে।
- গুপ্ত পঞ্জিকা মতে: ষষ্ঠী তিথি শুরু হয়েছে ১৯ জুন (শুক্রবার) রাত ১০টা ১৬ মিনিট ৪২ সেকেন্ডে এবং শেষ হবে ২০ জুন (শনিবার) রাত ৮টা ৫৭ মিনিট ৩৫ সেকেন্ডে।
কীভাবে করবেন ষষ্ঠী পুজো? জেনে নিন নিয়ম-কানুন
জামাই আদরের পাশাপাশি মা ষষ্ঠীর আরাধনা এই দিনের মূল অঙ্গ। প্রাচীন নিয়ম মেনে ধাপে ধাপে পুজো সম্পন্ন করতে হয়:
- স্নান ও প্রস্তুতি: ভোরবেলা শাশুড়ি মায়েদের স্নান সেরে শুদ্ধ বস্ত্র পরিধান করতে হয়।
- পুজোর উপাচার: মা ষষ্ঠীর উদ্দেশ্যে ৫ রকম মরশুমি ফল, মিষ্টি দই এবং ১০৮টি দুর্বা ঘাস নিবেদন করতে হয়। কাঁঠাল পাতার ওপর ফল রেখে পুজো করা অত্যন্ত শুভ, তবে কাঁসার পাত্রও ব্যবহার করা যেতে পারে।
- ঘট স্থাপন: একটি ঘড়া বা ঘটে জল ভরে তার ওপর আমের পল্লব বা আম্রপল্লব রাখতে হবে।
- জামাই বরণ: আসন পেতে ধূপ ও প্রদীপ জ্বালিয়ে ষষ্ঠীর ব্রতকথা পাঠ করতে হয়। এরপর মেয়ে-জামাইকে বসিয়ে তালপাতার পাখা দিয়ে হাওয়া করতে হয়।
- মঙ্গল কামনা: মেয়ে-জামাইয়ের কপালে দইয়ের ফোঁটা দিয়ে, হাতে হলুদ রঙের সুতো বেঁধে দেওয়া হয়। এরপর ১০৮টি দুর্বা ঘাস ভেজানো জল ছিটিয়ে, ‘ষাট ষাট’ বলে সমস্ত অমঙ্গল দূর করার প্রার্থনা করা হয়।
- মিষ্টিমুখ: পুজোর সমস্ত রীতি শেষ হলে জামাইয়ের হাতে থালা ভর্তি মিষ্টি ও ফল তুলে দেওয়া হয়।
এই সমস্ত মাঙ্গলিক আচার-অনুষ্ঠান সেরে তবেই শুরু হয় জামাই আদরের মূল পর্ব— গল্পগুজব এবং পাত পেড়ে এলাহি ভূরিভোজ!
