আদালতের তোপে ট্রাম্পের ১০% ‘অবৈধ’ শুল্ক, বড়সড় ধাক্কা খেল হোয়াইট হাউস – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির ওপর মার্কিন আদালতের একের পর এক স্থগিতাদেশে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহলে। সম্প্রতি মার্কিন ফেডারেল আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ককে ‘অবৈধ’ ও ‘আইনবহির্ভূত’ বলে খারিজ করে দিয়েছে। এর আগে সুপ্রিম কোর্টও একই ধরনের কঠোর অবস্থান নেওয়ায় হোয়াইট হাউস আইনি মারপ্যাঁচে পড়েছে। ফলে মালয়েশিয়ার পর এবার ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি (বিটিএ) ধীরগতি বা অনিশ্চয়তার মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
একতরফা সমঝোতার ঝুঁকি
বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন শুল্ক কাঠামোর এই আইনি অস্থিরতার মধ্যে ভারতের কোনো দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ (জিটিআরআই) জানিয়েছে, আমেরিকা বর্তমানে তাদের ‘মোস্ট ফেভারড নেশন’ (এমএফএন) শুল্ক কমাতে নারাজ, অথচ তারা ভারতের বাজার থেকে বড় সুবিধা আশা করছে। এমন পরিস্থিতিতে ভারত যদি স্থায়ী বাজার সুবিধা ছেড়ে দেয় এবং বিনিময়ে কোনো নিশ্চিত শুল্ক সুবিধা না পায়, তবে বাণিজ্য চুক্তিটি একতরফা হয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
বৈশ্বিক বাণিজ্যে প্রভাব ও সতর্কতা
মার্কিন আদালতের এই রায়গুলোকে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) নিয়মনীতির জয় হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তবে মার্কিন প্রশাসন এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ পাওয়ায় এখনই উদ্বেগ কাটছে না। ইতিপূর্বে আইনি ও বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তার কারণে মালয়েশিয়া আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। ভারতকেও এখন চুক্তিতে তাড়াহুড়ো না করে আমেরিকার একটি স্থিতিশীল এবং আইনত নির্ভরযোগ্য বাণিজ্য কাঠামো তৈরি হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
এক ঝলকে
- মার্কিন ফেডারেল আদালত ট্রাম্পের ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করে বাতিল করেছে।
- আইনি অনিশ্চয়তার কারণে ভারতের সাথে আমেরিকার প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তি পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
- বিশ্লেষকদের মতে, অস্থিতিশীল বাজারে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি দেওয়া ভারতের জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী হতে পারে।
- মালয়েশিয়া ইতিমধ্যেই পিছু হটেছে এবং ভারতের ওপরও এখন সতর্ক থাকার চাপ বাড়ছে।
