আদালতের নজিরবিহীন নির্দেশ! ২০৪৬ নয়, আগামী মাসেই হবে ৯০ বছরের বৃদ্ধার মামলার শুনানি

আদালতের নজিরবিহীন নির্দেশ! ২০৪৬ নয়, আগামী মাসেই হবে ৯০ বছরের বৃদ্ধার মামলার শুনানি

বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রিতা ও এক বৃদ্ধার লড়াইয়ের করুণ আখ্যান উঠে এল বোম্বে হাইকোর্টের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে। দক্ষিণ মুম্বইয়ের মালাবার হিল এলাকার বাসিন্দা ৯০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা ও তাঁর মেয়ের দায়ের করা মানহানির মামলার শুনানি ২০৪৬ সাল পর্যন্ত স্থগিত রাখার বিতর্কিত আদেশটি প্রত্যাহার করে নিয়েছে আদালত। আগামী ১৫ জুলাই এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

অহংকারের লড়াই বনাম আইনি অধিকার

২০১৭ সালে প্রখ্যাত গুজরাটি লেখিকা তারিণীবেন দেশাই (৯০) ও তাঁর কন্যা ধ্বনি দেশাই আবাসন সমিতির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ২০ কোটি টাকার মানহানির মামলা করেন। অভিযোগ ছিল, আবাসন মেরামতির খরচে আর্থিক অনিয়মের প্রতিবাদ করায় তাঁদের মিথ্যে ‘খেলাপি’ অপবাদ দিয়ে হেনস্তা করা হয়েছে। বিচারপতি জিতেন্দ্র জৈনের বেঞ্চ গত মঙ্গলবার এই মামলাটিকে ‘অহংকারের লড়াই’ বলে অভিহিত করেছিলেন। তিনি মন্তব্য করেছিলেন যে, আবেদনকারীরা প্রবীণ নাগরিক বলেই এই মামলা বাড়তি গুরুত্ব পেতে পারে না। এই যুক্তিতেই বিচারক শুনানির তারিখ ২০ বছর পিছিয়ে ২০৪৬ সালে নির্ধারণ করেছিলেন।

আদালতের অবস্থান পরিবর্তন ও ন্যায়বিচারের আশা

আবেদনকারীদের আইনজীবীরা আদালতের এই অস্বাভাবিক আদেশের বিরুদ্ধে পুনরায় আবেদন করলে বুধবার আদালত নিজের অবস্থান পরিবর্তন করে। জানা গেছে, ২০১৫ সালেই সমবায় বিভাগ ওই বৃদ্ধার বিরুদ্ধে আনা ১০.৩৪ লক্ষ টাকার বকেয়া বিল বাতিল করেছিল এবং আবাসনের তহবিলে দুর্নীতির প্রমাণ মিলেছিল। আদালতের সাম্প্রতিক এই পিছুটান বৃদ্ধা আবেদনকারীর জন্য স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর এখন জুলাই মাসের শুনানির দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

এক ঝলকে

  • ৯০ বছর বয়সী বৃদ্ধার মামলা ২০৪৬ সাল পর্যন্ত স্থগিত রাখার বিতর্কিত নির্দেশ প্রত্যাহার করল বোম্বে হাইকোর্ট।
  • আবাসন সমিতির দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় ‘অপমানিত’ লেখিকা তারিণীবেন দেশাই ও তাঁর কন্যা ২০১৭ সালে ২০ কোটি টাকার মামলা করেন।
  • প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে আদালত এটিকে ‘অহংকারের লড়াই’ বললেও আইনজীবীদের আপত্তিতে আগামী ১৫ জুলাই শুনানির নতুন তারিখ দেওয়া হয়েছে।
  • ইতোমধ্যেই সমবায় বিভাগের তদন্তে আবাসন কর্তৃপক্ষের আর্থিক অনিয়ম ও বৃদ্ধার বিরুদ্ধে আনা বকেয়া অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *