‘আপনারা তো আমাদেরই লোক’, বাংলায় পুজোয় আমিষ বিতর্কে জল ঢালতে ব্যস্ত ‘বাগেশ্বর বাবা’ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
September 11, 20268:34 pm
দুর্গাপুজোর দিনগুলিতে প্যান্ডেলের আশেপাশে আমিষ খাবার খাওয়া নিয়ে নিজের করা বিতর্কিত মন্তব্যে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তাপ প্রশমিত করতে মাঠে নামলেন বাগেশ্বরধামের প্রধান ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী। বর্তমানে স্কটল্যান্ডে অবস্থানরত এই ধর্মগুরু দাবি করেছেন, কারও খাদ্যাভ্যাস বা ব্যক্তিগত জীবনে নিয়ম চাপিয়ে দেওয়ার কোনো উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না। ভক্তদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, “আপনারা তো আমাদেরই লোক, আমি আপনাদের খাওয়া নিয়ে কেন কিছু বলতে যাব?”
বিতর্কের সূত্রপাত
সম্প্রতি হাওড়ার লিলুয়ায় ‘হনুমান কথা’র আসরে যোগ দিতে এসে ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী মন্তব্য করেছিলেন, পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুজোর প্যান্ডেলের কাছাকাছি এলাকায় আমিষ খাবার তৈরি করা বা খাওয়া তাঁর পছন্দ নয়। এই মন্তব্য ছড়িয়ে পড়া মাত্রই বাংলা জুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও এর বিরোধিতা শুরু করেন। এমনকি কোথাও কোথাও তাঁর ছবি পুড়িয়ে বিক্ষোভও দেখানো হয়।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
বিতর্ক তুঙ্গে উঠলে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়। বিজেপির তৎকালীন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানান, বাংলার মানুষের খাদ্যাভ্যাস নির্ধারণ করার অধিকার অন্য কারও নেই। অন্যদিকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বাগেশ্বর বাবার পাশে দাঁড়িয়ে মন্তব্য করেন, ধর্মগুরু কেবল নিজের ব্যক্তিগত ভাবনার কথাই তুলে ধরেছিলেন, কাউকে বাধ্য করতে চাননি।
স্কটল্যান্ড থেকে ড্যামেজ কন্ট্রোল
পরিস্থিতি জটিল হতে দেখে বিদেশ থেকেই বিষয়টির ব্যাখ্যা দিলেন এই ধর্মগুরু। তিনি দাবি করেন, মণ্ডপ ও দেবীর পবিত্রতা বজায় রাখার খাতিরেই তিনি কথাগুলি বলেছিলেন। প্যান্ডেলের ধর্মীয় পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে তিনি আমিষ খাবার মণ্ডপের বাইরে বা বাড়িতে খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন মাত্র। ধর্মগুরু হিসেবে হিংসা ও অনৈতিকতার বিরুদ্ধে কথা বলা তাঁর দায়িত্ব হলেও, কারও দৈনন্দিন অভ্যাসে হস্তক্ষেপ করার কোনো ইচ্ছে তাঁর ছিল না বলেই জানান তিনি।
