আপনার মেয়ের প্রথম পিরিয়ড কি আসছে? শরীর আগেভাগেই দেয় এই ৩টি ইঙ্গিত, মায়েদের অবশ্যই জানা প্রয়োজন – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মেয়েদের জীবনে পিরিয়ড বা ঋতুস্রাব একটি স্বাভাবিক ও অপরিহার্য জৈবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু প্রথমবার এই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলে অনেক কিশোরীই আতঙ্কিত বা বিভ্রান্ত বোধ করতে পারে। তাই কিশোরী বয়সে শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের জন্য মেয়েকে আগে থেকেই মানসিকভাবে প্রস্তুত রাখা মা হিসেবে আপনার প্রধান দায়িত্ব। পিরিয়ড শুরু হওয়ার আগেই শরীর বেশ কিছু ইঙ্গিত দেয়, যা একজন সচেতন মায়ের পক্ষে আগেভাগেই বুঝে নেওয়া জরুরি।
শরীরের দেওয়া ৩টি বিশেষ ইঙ্গিত:
- স্তনের বিকাশ: যদি দেখেন কিশোরী বয়সে আপনার মেয়ের স্তনের আকৃতি পরিবর্তন বা বৃদ্ধি পাচ্ছে, তবে বুঝে নেবেন যে আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যেই পিরিয়ড শুরু হতে পারে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরোপুরি স্তন বিকশিত হতে সাধারণত ৪ থেকে ৫ বছর সময় লাগে, তবে পরিবর্তন শুরুর এক-দু বছরের মধ্যেই ঋতুস্রাব শুরু হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
- শরীরের অবাঞ্ছিত লোম: সাধারণত ১০ বছর বয়সের আশেপাশে চগল (underarm) বা যৌনাঙ্গে লোম গজাতে দেখা যায়। এটি একটি অত্যন্ত স্পষ্ট লক্ষণ যে আগামী ১ থেকে ২ বছরের মধ্যে পিরিয়ড শুরু হবে। এই সময় থেকেই মেয়েকে স্যানিটারি প্যাড ব্যবহার এবং এই সম্পর্কিত পরিচ্ছন্নতা ও সতর্কতা নিয়ে খোলাখুলি কথা বলা শুরু করুন। এতে সে শারীরিক পরিবর্তনের সময় ভয় পাবে না।
- সাদা স্রাব (White Discharge): পিরিয়ড শুরু হওয়ার কয়েক মাস আগে থেকেই কিশোরীদের শরীরে সাদা বা ঈষৎ হলুদ রঙের স্রাব দেখা যেতে পারে। এটি ঋতুস্রাব শুরুর অন্যতম প্রধান লক্ষণ। এই সময় মেয়েকে আশ্বস্ত করুন এবং বিষয়টি যে কতটা স্বাভাবিক তা তাকে বোঝান।
কখন শুরু হতে পারে?
সাধারণত ১২ থেকে ১৩ বছর বয়সের মধ্যে পিরিয়ড শুরু হয়। তবে মনে রাখবেন, প্রতিটি মেয়ের শারীরিক গঠন আলাদা। খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার ওপর ভিত্তি করে কারোর ক্ষেত্রে এটি খুব দ্রুত হতে পারে, আবার কারোর ১৬ বছর বয়স পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
মায়েদের জন্য বিশেষ পরামর্শ:
প্রথমবার রক্তপাত দেখে ১২-১৩ বছরের একটি মেয়ে ভয় পাওয়া খুবই স্বাভাবিক। তাই তাকে শান্ত রাখতে মায়েদের এই বিষয়গুলো মেনে চলা উচিত:
১. খোলাখুলি আলোচনা: পিরিয়ড শুরু হওয়ার অনেক আগেই মেয়ের সাথে এই বিষয়টি নিয়ে সহজ ও স্বাভাবিকভাবে কথা বলুন।
২. স্যানিটারি প্যাড সম্পর্কে শিক্ষা: প্যাড কী, কীভাবে তা ব্যবহার করতে হয় এবং কীভাবে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হয়, তা তাকে হাতে-কলমে শিখিয়ে দিন।
৩. পুষ্টিকর খাবার: তাকে পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার খাওয়ান এবং বাইরের জাঙ্ক ফুড এড়িয়ে চলতে উৎসাহিত করুন।
৪. শারীরিক সক্রিয়তা: যোগব্যায়াম বা হালকা শারীরিক ব্যায়ামে তাকে উৎসাহিত করুন, যা তার শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহায়তা করবে।
মনে রাখবেন, আপনার সচেতনতা ও সহানুভূতি আপনার মেয়ের জীবনের এই নতুন অধ্যায়কে সহজ এবং ভীতিহীন করে তুলবে।
