আপনার হাঁটার গতিই বলে দেবে আয়ু, চমকপ্রদ তথ্য বিজ্ঞানীদের গবেষণায় – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মানুষের সুস্থ থাকার অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি হলো নিয়মিত হাঁটাচলা। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, শুধু হাঁটাচলা নয়, একজন মানুষের স্বাভাবিক হাঁটার গতি বিশ্লেষণ করেই তাঁর ভবিষ্যৎ আয়ু বা জীবনকাল অনুমান করা সম্ভব। দ্রুত হাঁটার অভ্যাস কেবল হৃদযন্ত্রকে সচল ও সবল রাখে না, বরং মানুষের দীর্ঘায়ু পাওয়ার ক্ষেত্রেও এটি অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।
গতি ও আয়ুর অন্তর্নিহিত সম্পর্ক
গবেষকদের মতে, দ্রুত গতিতে হাঁটার জন্য মানুষের শরীরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের নিখুঁত সমন্বয়ের প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে রয়েছে হৃদযন্ত্র, ফুসফুস, পেশি, হাড়ের সংযোগস্থল এবং স্নায়ুতন্ত্র। যখন কোনো ব্যক্তি স্বাভাবিকভাবেই দ্রুত গতিতে হাঁটেন, তখন স্পষ্ট হয় যে তাঁর এই সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অত্যন্ত সক্রিয় ও সুস্থ অবস্থায় রয়েছে। বিপরীতভাবে, যাদের স্বাভাবিক হাঁটার গতি ধীর, তাঁদের ক্ষেত্রে এটি শরীরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা কোনো স্বাস্থ্য সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। হৃদযন্ত্র বা পেশির কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে হ্রাস পাওয়ার কারণে হাঁটার গতি কমে যায়, যা ভবিষ্যতে অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়।
আমেরিকার পিটসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রায় পঁচিশ হাজার প্রবীণ মানুষের ওপর দীর্ঘ সময় ধরে একটি সমীক্ষা চালিয়ে এই তথ্য পেয়েছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রতি সেকেন্ডে ১ মিটার বা তার বেশি গতিতে হাঁটেন, তাঁদের গড় আয়ু প্রতি সেকেন্ডে ০.৮ মিটারের চেয়ে কম গতিতে হাঁটা মানুষের তুলনায় অনেক বেশি। চিকিৎসকরা তাই হাঁটার গতিকে রক্তচাপ বা পালস রেটের মতোই শরীরের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘ভাইটাল সাইন’ হিসেবে গণ্য করার পরামর্শ দিচ্ছেন। ধীর গতির হাঁটা অনেক সময় হৃদরোগ, স্ট্রোক বা ডিমেনশিয়ার মতো স্নায়বিক রোগের প্রাথমিক উপসর্গ হিসেবে কাজ করে।
শারীরিক ও মানসিক প্রভাব
দ্রুত হাঁটার অভ্যাস মানুষের শরীরে বহুমুখী ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। চিকিৎসকদের মতে, দ্রুত হাঁটলে বা ‘ব্রিস্ক ওয়াকিং’ করলে হৃদযন্ত্রের রক্ত পাম্প করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, যা সামগ্রিক রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে কার্ডিওভাসকুলার রোগের ঝুঁকি কমায়। এর ফলে ধীর গতিতে হাঁটার চেয়ে অনেক বেশি ক্যালোরি বার্ন হয়, যা শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া, জোরে হাঁটলে শরীরে ‘এন্ডোরফিন’ বা ফিল-গুড হরমোনের ক্ষরণ বাড়ে, যা মানসিক চাপ ও বিষণ্ণতা দূর করতে অত্যন্ত কার্যকরী। একই সাথে এটি পায়ের পেশি শক্তিশালী করে এবং জয়েন্টের নমনীয়তা বজায় রেখে বার্ধক্যেও শরীরকে সচল রাখে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘায়ু ও সুস্থতা নিশ্চিত করতে প্রতিদিনের হাঁটার গতি সামান্য বাড়ানো প্রয়োজন। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট এমন গতিতে হাঁটা উচিত যাতে শরীরে হালকা ঘাম হয়। অলসভাবে না হেঁটে একটু ছন্দ মিলিয়ে দ্রুত হাঁটার এই সামান্য অভ্যাসটিই মানুষের জীবনকালকে আরও কয়েক বছর বাড়িয়ে দিতে পারে এবং অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে পারে।
