‘আমাকে ফাঁসানোর ষোড়যন্ত্র!’ বিতর্কিত অডিও কাণ্ডে পুলিশি সমন পেতেই সোচ্চার হুমায়ুন কবীর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
September 19, 20267:48 pm
রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের বাদ্যি বাজতেই চরম অস্বস্তিতে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান তথা বর্ষীয়ান নেতা হুমায়ুন কবীর। বিতর্কিত এক অডিও ভাইরালের জেরে এবার তাঁকে সশরীরে বহরমপুর থানায় হাজিরার নির্দেশ দিল পুলিশ।
শনিবার বহরমপুর থানার একটি বিশেষ দল শক্তিপুরে হুমায়ুন কবীরের বাড়িতে গিয়ে এই সমন পৌঁছে দেয়। সেই সময় তিনি বাড়িতে না থাকায় তাঁর পুত্র গোলাম নবী আজাদ পুলিশের নোটিশটি গ্রহণ করেন।
কী রয়েছে নোটিশে? পুলিশ সূত্রের খবর, আগামী ২১ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায় বহরমপুর থানার সাব-ইন্সপেক্টর রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাসের সামনে হাজিরা দিতে হবে হুমায়ুন কবীরকে। সেখানে তদন্তকারী আধিকারিকের যাবতীয় প্রশ্নের বিশ্বাসযোগ্য উত্তর দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় বিএনএস-এর ২০৮ ধারা অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও রয়েছে।
বিতর্কিত অডিও ও চক্রান্তের অভিযোগ ঘটনার সূত্রপাত সম্প্রতি মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশ সুপার শচীন মক্কারের এক চাঞ্চল্যকর সাংবাদিক বৈঠককে কেন্দ্র করে। সেখানে একটি গোপন ফোন কলের অডিও প্রকাশ করে পুলিশ দাবি করে, রেজিনগর উপনির্বাচনের আগে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ানোর একটি গভীর চক্রান্ত চলছিল।
অডিওতে শোনা যায়:
- রেজিনগরের প্রস্তাবিত বাবরি মসজিদ এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ রেখে বিজেপির পতাকা টাঙিয়ে দেওয়ার ছক কষা হচ্ছিল, যাতে এক পক্ষ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
- এই ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যেই সারফরাজ নওয়াজ চৌধুরী নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
- ফোনে থাকা দ্বিতীয় ব্যক্তির কণ্ঠস্বর অনেকটাই হুমায়ুন কবীরের মতো বলে অনুমান পুলিশের। কণ্ঠস্বরের সত্যতা যাচাই করতে আদালতে ভয়েস স্যাম্পলিংয়ের আবেদনও জানানো হচ্ছে।
এই অডিও প্রকাশ্যে আসার পরই বহরমপুর থানায় বিএনএস-এর একাধিক ধারায় (২৯৯, ১৪৮, ১৫২, ১৯২, ১৯৬(২), ৬১(২)) মামলা রুজু করা হয়।
‘আমাকে চক্রান্ত করে ফাঁসানো হচ্ছে’, তোপ হুমায়ুন কবীরের পুলিশি নোটিশের পর নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন হুমায়ুন কবীর। তিনি জানান, ২১ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত সময়েই তিনি তদন্তকারী আধিকারিকের মুখোমুখি হবেন এবং সব প্রশ্নের উত্তর দেবেন।
তবে গোটা ঘটনাটিকে রাজনৈতিক চক্রান্ত দাবি করে হুমায়ুন বলেন, “ঐ ফোন কলটি আমাকে ফাঁসানোর জন্য করা একটি পরিকল্পিত ষোড়যন্ত্র। আমি ইতিমধ্যেই জেলা পুলিশ সুপারকে ই-মেল করে বিষয়টি জানিয়েছি এবং সঠিক তদন্তের আবেদন রেখেছি। তবুও পুলিশ যখন ডেকেছে, আমি নিশ্চয়ই যাব এবং সত্য তুলে ধরব।”
উল্লেখ্য, বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে এর আগেও শাক্তিপুর ও রেজিনগর থানায় একাধিকবার জেরার মুখে পড়তে হয়েছিল হুমায়ুন কবীরকে। উপনির্বাচনের মুখে নতুন করে এই তলব মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক পারদ আরও চড়িয়ে দিল।
