‘আমাদের খুনি বলা হচ্ছে!’ গোবিন্দ-কমল বিতর্কে সুনীতার পাশে দাঁড়িয়ে বিস্ফোরক কাশ্মীরা শাহ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
September 28, 202612:30 pm
বলিউড অভিনেতা গোবিন্দ এবং তাঁর ‘রূপা’ ছবির সহ-অভিনেত্রী কমল রানি স্বর্ণকরের কথিত সম্পর্ক ঘিরে বলিপাড়ায় জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। কমল রানি ও গোবিন্দের পরিবারের তরফ থেকে একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্যে পরিস্থিতি এখন বেশ উত্তপ্ত।
সম্প্রতি গোবিন্দের স্ত্রী সুনীতা আহুজা আবেগঘন গলায় মহিলা ও জেন জি (Gen Z)-এর কাছে পাশে থাকার আকুতি জানান। তিনি অভিযোগ করেন, ‘বিনা কারণে’ তাঁর এত বছরের সংসার ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। সুনীতার এই বার্তার পরেই তাঁর সমর্থনে স্পষ্ট ভাষায় এগিয়ে এলেন গোবিন্দের ভাইপো কৃষ্ণা অভিষেকের স্ত্রী তথা অভিনেত্রী কাশ্মীরা শাহ।
“প্রথমবার আমাদের খুনি বলা হচ্ছে” — গর্জে উঠলেন কাশ্মীরা
সোশ্যাল মিডিয়ায় কারো নাম না নিয়ে কাশ্মীরা লেখেন, ৩০ বছরের কেরিয়ারে তিনি বহু ছবিতে কাজ করলেও স্বামী কৃষ্ণা ছাড়া ব্যক্তিগত কথা আর কাউকে জানাননি। কাজের জায়গায় সহকর্মীরা এত ব্যক্তিগত বিষয় কীভাবে জানে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
কমল রানি সম্প্রতি অভিযোগ তুলেছিলেন যে সুনীতা নাকি দীর্ঘদিন ধরে গোবিন্দকে ‘হত্যা করার চেষ্টা’ করছেন। এই প্রসঙ্গের জবাবে কাশ্মীরা লেখেন— “আমাদের প্রায়ই অভদ্র, উদ্ধত বা স্বার্থপরের তকমা দেওয়া হয় কারণ আমরা নিজেদের পরিবারকে রক্ষা করি। কিন্তু এই প্রথমবার আমাদের ‘খুনি’ বলা হচ্ছে। নিজের পরিবার ও ভালোবাসার মানুষকে রক্ষা করার জন্য যদি খুনি তকমা পেতে হয়, তবে তাই হোক! সুনীতা, তুমি এমন একজন মহিলা বলে আমি গর্বিত। আমি সবসময় তোমার পাশে আছি।”
কমল রানির পাল্টা তোপ: “পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র”
অন্যদিকে কমল রানি নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে নাম না করে সুনীতার অভিশাপ ও অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, ইতিমধ্যেই ভেঙে যাওয়া একটি সংসারে নতুন করে ভাঙন ধরানোর ক্ষমতা কারো নেই।
কমল অভিযোগ করে লেখেন, “যে মহিলা নিজের স্বামীকেই বছরের পর বছর মেরে ফেলার চেষ্টা করছেন, তাঁর অভিশাপ কারো গায়ে লাগে না। একজন পুরুষকে মানসিকভাবে হেনস্থা করা, কাজ করতে না দেওয়া, ঘরে বসিয়ে একা করে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া—কোনো নিবেদিতপ্রাণ স্ত্রীর কাজ হতে পারে না। যন্ত্রণা না সারিয়ে তা প্রকাশ্যে প্রদর্শন করাটা কি সত্যিই যন্ত্রণা, নাকি কোনো পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র?”
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু লালবাগচা রাজা
বিতর্কের আগুনে ঘি পড়ে যখন মুম্বইয়ের বিখ্যাত ‘লালবাগচা রাজা’-র পুজোয় গোবিন্দ ও কমল রানিকে একসঙ্গে দেখা যায়। যদিও গোবিন্দের দাবি, এই সফর ছিল কেবল তাঁদের আসন্ন ছবির প্রচার সংক্রান্ত এবং তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করতেই এমন রটনা ছড়ানো হচ্ছে।
এর ঠিক আগেই একা পুজোয় গিয়ে সুনীতা মন্তব্য করেছিলেন, “আমার জীবনেও কিছু রাক্ষস এসেছে, মা যেন তাদের নাশ করেন। বিনা কারণে আমার ঘর ভেঙে যাচ্ছে, সবাই আমার পাশে দাঁড়ান।”
১৯৮৭ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া গোবিন্দ ও সুনীতার বিচ্ছেদ সংক্রান্ত নানা আইনি জটিলতা ও জল্পনা গত কয়েক মাস ধরেই সংবাদ শিরোনামে রয়েছে। এরই মাঝে আগস্টে রাখি সাওয়ান্তের সঙ্গে এক ফোনালাপে সুনীতা দাবি করেছিলেন গোবিন্দ ও কমল নাকি বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন (যদিও গোবিন্দের ম্যানেজার তা খণ্ডন করেন)। সব মিলিয়ে গোবিন্দ-সুনীতা-কমলের এই ত্রিকোণ টানাপোড়েন এখন নেটপাড়ার হট টপিক।
