‘আমাদের দলের লোক নয়!’ বিকাশ ভট্টাচার্যের বাড়িতে হামলায় ধৃতকে ঘিরে ‘নো ম্যানস ল্যান্ডে’ রাজনীতি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতার প্রাক্তন মেয়র, সিপিআইএম নেতা তথা বিশিষ্ট আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের পূর্ব যাদবপুরের বাড়িতে বোতলবৃষ্টি ও ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশ গ্রেফতার করেছে অভিযুক্ত বাপ্পা গুছাইতকে। ইএম বাইপাসের ট্র্যাফিক ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে এই অ্যাপ-বাইক চালককে চিহ্নিত করার পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয় এবং তাঁর ব্যবহৃত বাইকটিও বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। তবে অভিযুক্ত গ্রেফতার হতেই শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি— বাপ্পা আদতে কোন দলের লোক?
স্থানীয় সূত্রের খবর, এলাকায় ‘রগচটা’ ও চরম মেজাজি যুবক হিসেবেই পরিচিত পেশায় অ্যাপ-বাইক চালক বাপ্পা। অভিযোগ, গত বৃহস্পতিবার কাকভোরে কয়েকজন সঙ্গীকে নিয়ে বাইকে চেপে বিকাশরঞ্জনবাবুর বাড়ির সামনে হাজির হন তিনি। “আমাদের পিছনে লাগবি না, আমরা দেশভক্ত”— এই হুঙ্কার দিয়ে জানলা লক্ষ্য করে মদের বোতল ছোড়া হয়। এরপর অকথ্য গালিগালাজ ও হুমকি দিয়ে বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরাটি ভেঙে দিয়ে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা। ঘটনার পর পূর্ব যাদবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন বিকাশবাবু। এই হামলার নেপথ্যে কোনো রাজনৈতিক ইন্ধন বা কারো নির্দেশ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
এদিকে অভিযুক্ত গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই তাঁর রাজনৈতিক আনুগত্য নিয়ে শুরু হয়েছে চাপানউতোর। তৃণমূলের দাবি, বাপ্পা আদতে ‘পুরনো বিজেপি কর্মী’। ২০২৩ সালের পুরভোটের সময়ে তিনি তৃণমূলে এলেও পরবর্তীতে ফের গেরুয়া শিবিরে ফিরে যান। সমাজমাধ্যমে তৃণমূল নেতৃত্বের পাশে বাপ্পার ছবি প্রসঙ্গে শাসকদলের ব্যাখ্যা, যে যখন ক্ষমতায় থাকে, তার গা ঘেঁষে চলাই এই ধরনের সুবিধাবাদী চরিত্রের বৈশিষ্ট্য। এই হামলার সঙ্গে তৃণমূলের দূরতম কোনো সম্পর্ক নেই।
অন্যদিকে বিজেপির পক্ষ থেকে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বিজেপির দাবি, চার মে-র পর কাউকেই আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন করে দলে নেওয়া হয়নি এবং বাপ্পার বিজেপি সদস্য হওয়ার কোনো প্রমাণ নেই। বিজেপির পাল্টা অভিযোগ, বাপ্পা নিশ্চিতভাবেই শাসকদলের ক্যাডার ছিলেন এবং তৃণমূলের পতাকা নিয়েই ঘুরে বেড়াতেন।
সব মিলিয়ে, প্রাক্তন মেয়রের বাড়িতে হামলায় অভিযুক্ত বাপ্পাকে এখন নিজেদের লোক বলে মানতে নারাজ কোনো পক্ষই। শাসক-বিরোধী পারস্পরিক দায় এড়ানোর রাজনীতিতে বাপ্পা গুছাইতের অবস্থান এখন দাঁড়িয়েছে সম্পূর্ণ ‘নো ম্যানস ল্যান্ডে’।
