“আমায় মেরে ফেলার চক্রান্ত ছিল”, নবদ্বীপে পদত্যাগী কাউন্সিলরের ওপর প্রাণঘাতী হামলা, চাঞ্চল্য! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
নবদ্বীপ: সক্রিয় রাজনীতি থেকে সন্ন্যাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ছেড়েছিলেন কাউন্সিলর পদও। তবুও নিস্তার মিলল না! কেবল অতীতে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে নদিয়ার নবদ্বীপে এক পদত্যাগী কাউন্সিলরকে রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠল একদল যুবকের বিরুদ্ধে। আক্রান্ত প্রাক্তন কাউন্সিলরের নাম ঝন্টুলাল দাস। বর্তমানে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় নবদ্বীপ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
জানা গিয়েছে, নবদ্বীপ পুরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন ঝন্টুলাল দাস, পেশায় তিনি একজন শিক্ষাকর্মী। একুশের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই তিনি রাজনীতি থেকে দূরত্ব বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নেন এবং সম্প্রতি কাউন্সিলর পদে ইস্তফাও দেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে খবর, শনিবার প্রতাপনগরের সুদর্শন হাই স্কুল থেকে কাজ সেরে বাড়ি ফিরছিলেন ঝন্টুলালবাবু। অভিযোগ, সেই সময় কয়েকজন যুবক তাঁর পথ আটকায়। প্রথমে তাঁকে লক্ষ্য করে কাঁচা ডিম ছোড়া হয়। তিনি প্রতিবাদ জানিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে, রাস্তায় ফেলে শুরু হয় নির্মম মারধর। সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে (ভিডিওর সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা হয়নি), তাঁকে রাস্তায় ফেলে একের পর এক আঘাত করা হচ্ছে। তিনি উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও রেহাই মেলেনি।
পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে আশঙ্কাজনক ও রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে নবদ্বীপ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
হাসপাতালের শয্যা থেকে ক্ষোভ উগরে দিয়ে ঝন্টুলাল দাস বলেন: “তৃণমূল দল করাটাই কি আমার অপরাধ ছিল? ওরা বলছিল, ‘তুই তৃণমূল করেছিস, অনেক খেয়েছিস।’ কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমাকে মারতে শুরু করে। আক্রমণকারীদের আমি চিনি না। কোনো রাজনৈতিক ক্ষোভ নয়, একদল সুবিধাবাদী লোক চক্রান্ত করে আমায় মেরে ফেলার জন্যই এই নোংরামো করেছে।”
এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন নবদ্বীপের বিজেপি বিধায়ক শ্রুতিশেখর গোস্বামী। তিনি আশ্বাস দিয়ে জানিয়েছেন, পুলিশ দোষীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে। তবে এই ঘটনায় রাত পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
