আমেরিকাকে ধোঁকা দিয়ে ইরানকে মদত! পাকিস্তানের এয়ারবেসে ইরানি যুদ্ধবিমান, ফাঁস চাঞ্চল্যকর ছবি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
উপগ্রহ চিত্রে ফাঁস হয়ে গেল পাকিস্তানের দ্বিমুখী আচরণ। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যখন মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে ইসলামাবাদ, ঠিক তখনই তাদের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ইরানি যুদ্ধবিমানের উপস্থিতি ধরা পড়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
গোপন আশ্রয়ের প্রমাণ এবং উপগ্রহ চিত্র
সম্প্রতি ভ্যান্টর (Vantor) প্রকাশিত উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন উপগ্রহ চিত্রে দেখা গেছে, পাকিস্তানের নূর খান বিমান ঘাঁটিতে ইরানের বিমান বাহিনীর একটি সি-১৩০ (C-130) সামরিক বিমান দাঁড়িয়ে আছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ দাবি করেছে, উপসাগরীয় যুদ্ধের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে আমেরিকান হামলা থেকে বাঁচাতে পাকিস্তান গোপনে ইরানি বিমানকে নিজেদের ঘাঁটিতে জায়গা দিয়েছে। এই বিমানগুলোর মধ্যে একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল আরসি-১৩০ (RC-130) গোয়েন্দা বিমানও রয়েছে বলে জানা গেছে। এটি মূলত লকহিড সি-১৩০ হারকিউলিস পরিবহন বিমানের একটি বিশেষ সংস্করণ, যা তথ্য সংগ্রহের কাজে ব্যবহৃত হয়।
ইসলামাবাদের সাফাই ও কূটনৈতিক সংকট
এই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রক প্রাথমিকভাবে বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে একটি দায়সারা ব্যাখ্যা দিয়েছে। তাদের দাবি, শান্তি আলোচনার সঙ্গে যুক্ত কূটনীতিক এবং প্রশাসনিক কর্মীদের আনা-নেওয়ার জন্য ইরান ও আমেরিকার বিমান পাকিস্তানের আকাশসীমা ও বিমান ঘাঁটি ব্যবহার করেছে। তবে একজন উচ্চ-নিরাপত্তাসম্পন্ন সামরিক ঘাঁটিতে দীর্ঘ সময় ধরে কেন ইরানের গোয়েন্দা বিমান রাখা হয়েছিল, সে বিষয়ে পাকিস্তান কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি।
বিশ্বস্ততা নিয়ে প্রশ্ন ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই ঘটনার ফলে আমেরিকার রাজনৈতিক মহলে পাকিস্তানের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে। রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম এই খবরের প্রেক্ষিতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন প্রশাসনের ভেতরেও আশঙ্কা বাড়ছে যে, পাকিস্তান হয়তো আলোচনার প্রকৃত তথ্য ওয়াশিংটনের কাছে আড়াল করছে। এই দ্বিমুখী আচরণের ফলে আগামী দিনে আমেরিকার সঙ্গে পাকিস্তানের কৌশলগত সম্পর্কে বড় ধরনের ফাটল ধরার সম্ভাবনা রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে ইসলামাবাদকে কোণঠাসা করে ফেলতে পারে।
