আমেরিকায় ১০ বিজ্ঞানীর রহস্যমৃত্যু, এলিয়েন নাকি ভয়ংকর ষড়যন্ত্র?

আমেরিকার বিজ্ঞান মহলে গত কয়েক মাসে একের পর এক হাই-প্রোফাইল বিশেষজ্ঞের রহস্যময় মৃত্যু ও নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নাসার মহাকাশ গবেষক থেকে শুরু করে পরমাণু অস্ত্র বিশেষজ্ঞ—তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের নিখোঁজ হওয়া বা অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনাগুলো বৈজ্ঞানিক অঙ্গনে বড় ধরনের উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। নিখোঁজ তালিকায় রয়েছেন কানসাস সিটি ন্যাশনাল সিকিওরিটি ক্যাম্পাসের প্রধান স্টিভেন গার্সিয়া, মার্কিন বায়ুসেনার অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল উইলিয়াম নিল ম্যাকাসল্যান্ড এবং মহাকাশ যুদ্ধাস্ত্র বিশেষজ্ঞ মনিকা রেজাসহ আরও অনেকে।
রহস্যের নেপথ্যে কী?
নিখোঁজ বা মৃত বিজ্ঞানীদের মধ্যে অনেকেই মহাকাশ গবেষণা ও স্পর্শকাতর সামরিক প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করতেন। এই ঘটনার নেপথ্যে এলিয়েন বা ভিনগ্রহের প্রাণীর গোপন কোনো তথ্যের সংযোগ রয়েছে কি না, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। যদিও এফবিআই-এর প্রাক্তন অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর ক্রিস সোয়েকার অলৌকিক তত্ত্বকে পুরোপুরি মানতে নারাজ, তবুও তিনি একে একটি গভীর রহস্য হিসেবে অভিহিত করেছেন। তদন্তকারীদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট অপরাধের প্রমাণ না মিললেও, ঘটনার পরম্পরা এবং ময়নাতদন্তের রেকর্ড গায়েব হওয়ার মতো ঘটনাগুলো বড় কোনো ষড়যন্ত্রের দিকে নির্দেশ করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হোয়াইট হাউসের প্রতিক্রিয়া
বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সংবেদনশীল হওয়ায় মার্কিন প্রশাসনকেও চাপের মুখে পড়তে হয়েছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলাইন লেভিট জানিয়েছেন, পুরো ঘটনাটি সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্বসহকারে পর্যালোচনা করছে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে বাইডেন প্রশাসন। মার্কিন কংগ্রেসের রুদ্ধদ্বার বৈঠকেও এই রহস্যময় পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
এক ঝলকে
- গত কয়েক মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ১০ জন শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানী ও মহাকাশ গবেষক রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ অথবা মৃত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছেন।
- নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন পরমাণু অস্ত্র ও মহাকাশ যুদ্ধাস্ত্র বিশেষজ্ঞ, যাদের কাজের ধরন অত্যন্ত স্পর্শকাতর।
- কোনো কোনো ক্ষেত্রে ময়নাতদন্তের রেকর্ড গায়েব ও কোনো কোনো ক্ষেত্রে রহস্যজনক পারিপার্শ্বিকতার কারণে ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব জোরালো হচ্ছে।
- হোয়াইট হাউস ও মার্কিন কংগ্রেস পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে।
