আমেরিকা-চীনও ফেল! ভারতের ‘টেম্পল ইকোনমি’র স্বর্ণভাণ্ডারে লুকিয়ে অবিশ্বাস্য আর্থিক শক্তি – এবেলা

আমেরিকা-চীনও ফেল! ভারতের ‘টেম্পল ইকোনমি’র স্বর্ণভাণ্ডারে লুকিয়ে অবিশ্বাস্য আর্থিক শক্তি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ভারতের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির এক বিরাট অংশ জুড়ে রয়েছে দেশের ‘টেম্পল ইকোনমি’ বা মন্দির অর্থনীতি। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে ভারতের রিজার্ভ ব্যাংকের (আরবিআই) ভাণ্ডারে সঞ্চিত সোনার পরিমাণ ৮৮০ টন। কিন্তু এর কয়েক গুণ বেশি সোনা ছড়িয়ে রয়েছে দেশজুড়ে থাকা অসংখ্য মন্দিরের সিন্দুকে। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের মন্দিরগুলোর সিন্দুকে গচ্ছিত সোনার পরিমাণ প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার টন। এই বিপুল পরিমাণ স্বর্ণভাণ্ডার যদি দেশের মূল অর্থনীতির ধারায় যুক্ত করা সম্ভব হয়, তবে জিডিপির নিরিখে চীন ও আমেরিকার মতো বৈশ্বিক অর্থনৈতিক শক্তিকেও পেছনে ফেলে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ভারতের।

মন্দিরের সিন্দুকে যখের ধন

ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের মন্দিরগুলোতে জমে থাকা সোনার পরিমাণ সত্যি চোখ কপালে তোলার মতো। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, কেরলের পদ্মনাভ স্বামী মন্দিরে সবচেয়ে বেশি, প্রায় ১,৩০০ টন সোনা রয়েছে। এছাড়া অন্ধ্রপ্রদেশের তিরুপতি মন্দিরের সিন্দুকে সঞ্চিত সোনার পরিমাণ ১১,৩২৯ কেজি, শিরিডি সাঁই মন্দিরে ৩৮০ কেজি, মীনাক্ষী মন্দিরে ৩০০ কেজি এবং পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে ১৫০ কেজি সোনা গচ্ছিত রয়েছে। ছোট-বড় সব মন্দির মিলিয়ে এই পরিমাণ প্রায় ৫ হাজার টনে গিয়ে ঠেকবে। অন্যদিকে, সাধারণ ভারতীয় গৃহস্থের কাছে রয়েছে আরও প্রায় ২৫ হাজার টন সোনা। ফলে নাগরিক ও মন্দির মিলিয়ে ভারতের মোট সোনার পরিমাণ ৩০ হাজার টনেরও বেশি, যেখানে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি আমেরিকার মোট সোনার পরিমাণ মাত্র ৮,৯৩১ টন।

অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব ও বর্তমান সংকট

বর্তমানে এই বিপুল পরিমাণ সোনা দেশের মূল অর্থনৈতিক হিসাবের বাইরে রয়েছে। সম্প্রতি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার (ফরেক্স) সুরক্ষিত রাখতে দেশবাসীকে সোনা কেনায় লাগাম পরানোর আর্জি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ইন্ডিয়া বুলিয়ন অ্যান্ড জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (আইবিজেএ) ইতোমধ্যেই আহ্বান জানিয়েছে যেন মন্দির ট্রাস্টগুলোর হাতে থাকা সোনা থেকে অন্তত ১,০০০ টন সোনাকে ‘স্বর্ণ নগদীকরণ প্রকল্প’-এর আওতায় মূলধারার অর্থনীতিতে নিয়ে আসা হয়। এটি করা সম্ভব হলে ভারতের সোনা আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে।

অতীতেও দেশের সংকটকালীন মুহূর্তে মন্দিরগুলো বড় ভূমিকা পালন করেছে। ১৯৬৫ সালের গভীর আর্থিক সংকটের সময় তিরুপতি মন্দির সরকারকে ১২৫ কেজি সোনা দান করেছিল। এমনকি অতি সম্প্রতি, ২০২৫ সালেও তামিলনাড়ুর ২১টি মন্দির মোট ১,০০০ কেজি সোনা রাজ্য সরকারকে দান করে, যা থেকে বর্তমানে রাজ্য সরকার বার্ষিক কোটি কোটি টাকা সুদ পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মন্দিরের এই সোনা যদি কোনোভাবে সরকারি কোষাগারে বা আরবিআইয়ের আওতায় আনা যায়, তবে দেশের অফিশিয়াল স্বর্ণভাণ্ডার একলাফে ৪,৮৮০ টনে পৌঁছে যাবে, যা ভারতের জাতীয় অর্থনীতিকে এক অভূতপূর্ব শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে দাঁড় করাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *