আরএসএসে যোগদানের হিড়িক, ২৫ লক্ষ আবেদনের নেপথ্যে কি কেবলই ক্ষমতার ট্রেন্ড? – এবেলা

আরএসএসে যোগদানের হিড়িক, ২৫ লক্ষ আবেদনের নেপথ্যে কি কেবলই ক্ষমতার ট্রেন্ড? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এক অভূতপূর্ব সাংগঠনিক রূপান্তর লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রাজ্যে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠার মাত্র এক মাসের মধ্যে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘে (আরএসএস) যোগদানের জন্য উপচে পড়ছে আবেদন। দলীয় সূত্রের খবর, কেবল বাংলা থেকেই অনলাইনের মাধ্যমে প্রায় ২৫ লক্ষ মানুষ সংঘের সাথে যুক্ত হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, যার মধ্যে সিংহভাগ—প্রায় নয় লক্ষ আবেদন এসেছে উত্তরবঙ্গ থেকে। একই জোয়ার দেখা যাচ্ছে আরএসএসের শিক্ষক সংগঠন অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘেও (এবিআরএসএম)। আচমকা এই বিপুল সাড়ায় একদিকে যেমন সাংগঠনিক বিস্তারের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তেমনই তৈরি হয়েছে এক ভিন্ন বিতর্ক।

মতাদর্শের প্রসার নাকি সুবিধাবাদের ট্রেন্ড

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সংঘের অভ্যন্তরে প্রশ্ন উঠছে, এই বিপুল আবেদন কি সত্যিই আরএসএসের জাতীয়তাবাদী ভাবাদর্শের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে, নাকি ক্ষমতার বৃত্তে থাকার এক সাময়িক হিড়িক? বাংলায় সরকার বদলের পর রাতারাতি বহু মানুষের কাছে আরএসএসের প্রাসঙ্গিকতা বদলে গেছে। একসময় যে সংগঠন সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারণা অস্পষ্ট ছিল, এখন সেখানে যোগ দিতে লাইনে দাঁড়াচ্ছেন দলে দলে মানুষ। তবে সংঘের শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশ মনে করছেন, অনেকেই আরএসএসকে সাধারণ রাজনৈতিক দল ভেবে ভুল করছেন। এই স্রোতের মধ্যে আদর্শগত চেতনার চেয়ে ক্ষমতার পিঠে সওয়ার হওয়ার প্রবণতাই বেশি কাজ করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অনুপ্রবেশ রুখতে কঠোর ‘ছাঁকনি’ ও ধীরে চলো নীতি

পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং সংগঠনের নিজস্ব ভাবমূর্তি বজায় রাখতে আপাতত ‘ধীরে চলো’ নীতি গ্রহণ করেছে আরএসএস। আবেদন জমা পড়লেই যে সরাসরি সদস্যপদ মিলবে, বিষয়টি তেমন নয়। বিশেষ করে তৃণমূল জমানায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করা বা নেতৃত্ব দেওয়া ব্যক্তিদের বাদ দিতে নিজস্ব ‘ছাঁকনি’ ব্যবহার করছে সংঘের বিভিন্ন শাখা। যেমন, শিক্ষক সংগঠন এবিআরএসএম-এর সদস্য সংখ্যা গত বছরের ১০ হাজার থেকে বেড়ে ইতিমধ্যেই ৪০ হাজারে পৌঁছেছে এবং আগামী বছর দেড় লক্ষের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেখানেও সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, পূর্বতন শাসকদলের সক্রিয় নেতাদের কোনোভাবেই সংগঠনে জায়গা দেওয়া হবে না। তবে যাঁরা পরিস্থিতির চাপে পড়ে অন্য সংগঠনে ছিলেন, তাঁদের জন্য দরজা খোলা রাখা হচ্ছে।

সংগঠনের এই আকস্মিক বিস্তার ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণে আগামী ২৮ জুন একটি সর্বভারতীয় স্তরের বিশেষ বৈঠকের ডাক দেওয়া হয়েছে, যেখানে পশ্চিমবঙ্গকে বাড়তি গুরুত্ব দিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *