আরব বিশ্বের প্রথম পরমাণু কেন্দ্রে ড্রোন হামলা! ছড়ালো তেজস্ক্রিয়তার আতঙ্ক – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর (ইউএই) আলো দাফরা অঞ্চলে অবস্থিত বরাকা পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে একটি ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলার ফলে পরমাণুকেন্দ্রটির বাইরের একটি বৈদ্যুতিক জেনারেটরে আগুন ধরে যায়। পারমাণবিক স্থাপনায় এমন আকস্মিক হামলার ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে ওই অঞ্চলে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে সৌভাগ্যবশত এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি এবং ফেডারেল অথরিটি ফর নিউক্লিয়ার রেগুলেশন (এফএএনআর) এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে ওখানকার তেজস্ক্রিয় নিরাপত্তার মাত্রা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।
আঞ্চলিক নিরাপত্তার সংকট ও প্রভাব
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার দীর্ঘকালীন ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে গোটা মধ্যপ্রাচ্য এমনিতেই স্পর্শকাতর অবস্থায় রয়েছে। এর আগে আমিরশাহীর তৈলভাণ্ডার ও জ্বালানি স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে একাধিকবার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হলেও, এবারের পারমাণবিক স্থাপনাকে নিশানা করার ঘটনাটি সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রার বিপদ সংকেত দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পারমাণবিক কেন্দ্রে যেকোনো ধরনের সফল আঘাত বড়সড় পরিবেশগত বিপর্যয় এবং অভূতপূর্ব মানবিক সংকট তৈরি করতে পারত। আমিরশাহীর আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অতীতে বহু হামলা রুখে দিলেও, এবার প্ল্যান্টের বাইরের অংশে ড্রোনের পৌঁছানো নিরাপত্তা ব্যবস্থার বড় ফাঁকফোকরকে সামনে এনেছে।
নেপথ্যের কারণ ও তদন্তের নির্দেশ
কে বা কারা এই হামলার সঙ্গে জড়িত, তা এখনও সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি এবং এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে প্রাথমিক অনুমান করা হচ্ছে যে, ইরান-সমর্থিত কোনো গোষ্ঠী এই হামলার পেছনে থাকতে পারে। আমিরশাহী সরকার ইতিমধ্যেই এই নজিরবিহীন হামলার ঘটনার উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। উল্লেখ্য, বরাকা পরমাণুকেন্দ্রটি আমিরশাহীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জাতীয় সম্পদ, যা দেশের মোট বিদ্যুতের ২৫ শতাংশ চাহিদা পূরণ করে থাকে। ফলে এই হামলার কারণে দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদন ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ব্যাহত করার একটি বড় চক্রান্ত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এক ঝলকে
- সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর বরাকা পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের বাইরের বৈদ্যুতিক জেনারেটরে ড্রোন হামলা ও অগ্নিকাণ্ড।
- হামলায় কোনো হতাহত হয়নি এবং বর্তমানে ওই এলাকার তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা স্বাভাবিক রয়েছে।
- আরব বিশ্বের প্রথম এই পরমাণুকেন্দ্রটি আমিরশাহীর মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২৫ শতাংশ পূরণ করে।
- হামলার দায় কেউ স্বীকার না করলেও ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীর দিকে সন্দেহের তির এবং ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
