আরব সাগরে ভারতীয় রণতরীকে গুঁতো দেওয়ার চেষ্টা! মাশুল গুনল পাকিস্তান – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
September 18, 20267:50 am
উত্তর আরব সাগরে ভারতীয় নৌসেনার শক্তিমত্তার সামনে নতিস্বীকার করতে হলো পাকিস্তান নৌবাহিনীকে। রুটিন নজরদারি চলাকালীন ভারতীয় রণতরী INS Kolkata-র অত্যন্ত কাছাকাছি চলে আসে পাকিস্তানের টহলদারি জাহাজ PNS Hunain। ভারতীয় সেনার একাধিক সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে এগোতে গিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে পাক জাহাজটি। বিশাল আকারের ভারতীয় ডেস্ট্রয়ারের ধাক্কায় নিজেই মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয় পাকিস্তানের রণতরী।
ঘটনার ফলাফল ও ক্ষয়ক্ষতি
- INS Kolkata: প্রায় ৭,৪০০ টন ওজনের এই শক্তিশালী ভারতীয় যুদ্ধজাহাজের কোনো কাঠামোগত ক্ষতি হয়নি এবং নৌসেনার সব সদস্য সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রয়েছেন।
- PNS Hunain: সংঘর্ষের জেরে পাক জাহাজের সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়। কোনোক্রমে সেটিকে বন্দরের দিকে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়।
- কূটনৈতিক বার্তা: নিয়ম ভেঙে বিপজ্জনকভাবে জাহাজ চালানোর অপরাধে ভারতে নিযুক্ত পাকিস্তানের ‘চার্জ ডি অ্যাফেয়ার্স’-কে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে দিল্লির বিদেশ মন্ত্রক।
আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্ঘন ১৯৯১ সালের ভারত-পাকিস্তান চুক্তি অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক জলসীমায় দুই দেশের রণতরী বা সাবমেরিনের মধ্যে অন্তত ৩ নটিক্যাল মাইল (প্রায় ৫.৬ কিলোমিটার) নিরাপত্তা দূরত্ব বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। পাক জাহাজ ‘PNS হুনাইন’ এই দূরত্ব না মেনে অত্যন্ত অপেশাদার আচরণ করেছে।
দুই যুদ্ধজাহাজের শক্তির তুলনা
INS Kolkata (ভারত)
- ধরন ও ওজন: Kolkata-Class Guided Missile Destroyer, ওজন প্রায় ৭,৪০০ টন।
- প্রধান অস্ত্র: ব্রহ্মোস (BrahMos) সুপারসনিক অ্যান্টি-শিপ ক্রুজ মিসাইল, দীর্ঘপাল্লার সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল (LRSAM)।
- প্রতিরক্ষা ও নজরদারি: ৩৬০ ডিগ্রি নজরদারি রাডার, AK-630 ক্লোজ-ইন ওয়েপন সিস্টেম, টর্পেডো লঞ্চার, অ্যান্টি-সাবমেরিন ব্যবস্থা এবং হেলিপ্যাড।
PNS Hunain (পাকিস্তান)
- ধরন ও ওজন: Yarmook-Class Offshore Patrol Vessel (করভেট), ওজন মাত্র ২,৩০০–২,৬০০ টন (২০২৪ সালে নৌবাহিনীতে যুক্ত)।
- প্রধান অস্ত্র: হারবা (Harbah) সারফেস-টু-সারফেস মিসাইল।
- প্রতিরক্ষা ও নজরদারি: ৩০ মিমি ও ১২.৭ মিমি রিমোট গান, ফ্যাল্যাঙ্কস (Phalanx) ক্লোজ-ইন ওয়েপন সিস্টেম এবং ড্রোন (UAV) পরিচালনার সুবিধা।
৭,৪০০ টনের পাহাড়সম ‘INS কলকাতা’-র মুখোমুখি হতে গিয়ে মাত্র ২,৬০০ টনের ছোট আকারের পাক জাহাজটির ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনাটি বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।
