আসন পুনর্বিন্যাসে নরম তৃণমূল ও ডিএমকে, বাদল অধিবেশনেই সংসদে আসছে ডিলিমিটেশন বিল – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
আসন্ন বাদল অধিবেশনেই সংসদে বহু বিতর্কিত ডিলিমিটেশন বিল (আসন পুনর্বিন্যাস বিল) পুনরায় পেশ করতে পারে কেন্দ্রীয় সরকার। এই বিলকে ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের যে অচলাবস্থা ছিল, তা কাটাতে এবার তৎপর হয়েছে কেন্দ্র। পূর্ববর্তী অবস্থান থেকে সরে এসে তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) এবং ডিএমকে-র মতো প্রধান বিরোধী আঞ্চলিক দলগুলি এই ইস্যুতে কিছুটা নরম মনোভাব দেখানোর ইঙ্গিত দেওয়ায় বিলটি পাসের সম্ভাবনা নতুন করে তৈরি হয়েছে।
আঞ্চলিক দলগুলির অবস্থান বদলের ইঙ্গিত
সরকারি সূত্রের খবর, ডিলিমিটেশন ইস্যুতে ঐকমত্য গড়ে তুলতে কেন্দ্র ইতিমধ্যে একাধিক আঞ্চলিক দলের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। এই প্রক্রিয়ায় তৃণমূল কংগ্রেসের বেশ কয়েকজন সাংসদ ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন এবং কেন্দ্রের প্রস্তাব নিয়ে দলের অন্দরেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া মিলেছে। যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে, তামিলনাড়ুর শাসক দল ডিএমকে-ও তাদের কট্টর অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসেছে। তারা জানিয়েছে, সরকার আগে সংসদে বিলের নতুন খসড়া পেশ করুক, তা খতিয়ে দেখে তারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
আসন বৃদ্ধি ও বিরোধিতার কারণ
এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলে বাজেট অধিবেশনের বিশেষ পর্বে এই বিলটি পেশ করা হলে ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়ে তা সংসদে খারিজ হয়ে যায়। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৭ সালের পরিবর্তে ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস করার কথা বলা হয়েছে। এটি কার্যকর হলে এবং রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পেলে লোকসভার বর্তমান আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে একলাফে বেড়ে ৮৫০ হতে পারে। একই সঙ্গে কার্যকর হবে বহু প্রতীক্ষিত মহিলা সংরক্ষণ আইন, যার ফলে বর্ধিত আসনের এক-তৃতীয়াংশ নারীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।
পূর্বে বিরোধীদের প্রধান আপত্তি ছিল যে, ২০১১ সালের জনসংখ্যাকে ভিত্তি ধরলে উত্তর ভারতের হিন্দি বলয়ের রাজ্যগুলিতে লোকসভার আসন ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব অত্যধিক বৃদ্ধি পাবে। এর বিপরীতে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল দক্ষিণ ভারত, উত্তর-পূর্ব ভারত এবং ছোট রাজ্যগুলির রাজনৈতিক গুরুত্ব হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কেন্দ্র ও বিরোধীদের মধ্যে এই দফায় দফায় বৈঠক এবং নতুন খসড়া তৈরির উদ্যোগ সেই অচলাবস্থা কাটিয়ে আসন পুনর্বিন্যাসের পথ প্রশস্ত করতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
