আস্থা ভোটের পথে বিধানসভা? ঋতব্রত বনাম শোভনদেব বিতর্কে নতুন মোড় – এবেলা
June 10, 2026

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় তৃণমূলের অন্দরের এই নজিরবিহীন সংকট এবং বিরোধী দলনেতার পদ নিয়ে যে আইনি ও সাংবিধানিক জটিলতা তৈরি হয়েছে, তার প্রধান দিকগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
ঘটনার প্রেক্ষাপট:
- দুই শিবিরের লড়াই: তৃণমূল পরিষদীয় দল কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত। এক পক্ষে রয়েছেন নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনোনীত বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, অন্য পক্ষে রয়েছেন বিদ্রোহী ৫৯ জন বিধায়কের পছন্দের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
- নথি প্রকাশ: গত ৬ এবং ১৯ মে-র বৈঠকের নথি প্রকাশ করে শোভনদেব শিবিরের বৈধতা প্রমাণের চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে, ঋতব্রত শিবিরের দাবি, ৫৯ জন বিধায়কের সমর্থন তাঁদের সঙ্গেই রয়েছে।
- আস্থা ভোটের সম্ভাবনা: বিধানসভার সচিবালয় সূত্রে খবর, প্রকৃত বিরোধী দল কারা তা নির্ধারণ করতে বিধানসভায় নজিরবিহীনভাবে ‘আস্থা ভোট’ অনুষ্ঠিত হতে পারে। সাধারণত শাসক দলের বিরুদ্ধে এই ভোট হয়, কিন্তু বিরোধী দলের মর্যাদা প্রমাণের জন্য এমন ভোট ভারতের ইতিহাসে প্রায় অভিনব।
বর্তমান সমীকরণ:
- জাদু সংখ্যা (Magic Number): তৃণমূলের অন্দরের খবর অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা বৈঠকে বিধায়কদের উপস্থিতি উদ্বেগজনকভাবে কমে মাত্র আট জনে দাঁড়িয়েছে। বিধায়কদের বড় অংশের সমর্থন ঋতব্রত শিবিরের দিকে থাকায়, শোভনদেব শিবিরের পক্ষে বর্তমানে পর্যাপ্ত সংখ্যার অভাব রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
- স্পিকারের ভূমিকা: বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্পিকার ইতিমধ্যে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে স্বীকৃতি দিয়েছেন। প্রবীণ নেতা আব্দুল মান্নানের মতে, স্পিকারের এই সিদ্ধান্তের পর তাকে সরানো আইনত অত্যন্ত কঠিন।
- মমতা-অভিষেকের প্রচেষ্টা: নেত্রী ব্যক্তিগতভাবে বিদ্রোহী বিধায়কদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে পর্যাপ্ত বিধায়ককে দলে ফেরাতে না পারলে শোভনদেব শিবিরের পক্ষে আস্থা ভোটের দাবি জানানো চ্যালেঞ্জিং হতে পারে।
রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ:
আস্থা ভোট হোক বা না হোক, এই পরিস্থিতি তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক ভিতকে দুর্বল করে দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী দলনেতার পদ নিয়ে এই টানাপোড়েন আগামী পাঁচ বছর রাজ্যের বিরোধী রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে।
