ইউক্রেনের রণক্ষেত্রে মানুষের জায়গা নিল রোবট! যুদ্ধের নয়া রূপে আতঙ্কিত বিশ্ব – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ইউক্রেন রণক্ষেত্রে যুদ্ধের নতুন মোড়, রক্তক্ষয়ী সংঘাতের হাল ধরছে রোবট ও ড্রোন!
ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে চলমান দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ এক অভূতপূর্ব ও প্রযুক্তিগত মোড়ে পৌঁছেছে। যুদ্ধক্ষেত্রে এখন আর শুধু মানুষ নয়, বরং লড়াইয়ের মূল ফ্রন্টলাইনে জায়গা করে নিয়েছে অত্যাধুনিক রোবট ও ড্রোন। এই যন্ত্রচালিত যোদ্ধাদের কোনো খাদ্য, জল কিংবা বিশ্রামের প্রয়োজন নেই, যা যুদ্ধের চিরাচরিত সংজ্ঞাকে বদলে দিয়েছে। কিয়েভ বর্তমানে এমন এক কৌশল অবলম্বন করেছে যেখানে ইউক্রেনীয় সেনাদের সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে না পাঠিয়েই নিয়ন্ত্রিত কেন্দ্র থেকে রোবটের মাধ্যমে রুশ অবস্থানে হামলা চালানো হচ্ছে।
প্রযুক্তির নিখুঁত প্রয়োগে ‘মौन মৃত্যু’
ইউক্রেনীয় বাহিনীর ব্যবহৃত বিস্ফোরকবাহী এই রোবটগুলো এতটাই নিঃশব্দে লক্ষ্যবস্তুর দিকে এগিয়ে যায় যে, রুশ সেনারা এদের উপস্থিতি টের পাওয়ার আগেই বিস্ফোরণের কবলে পড়ে। এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কারণে রুশ শিবিরে এই যন্ত্রগুলো ‘মौन মৃত্যু’ বা সাইলেন্ট ডেথ নামে পরিচিতি পেয়েছে। এপ্রিল মাসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, প্রথমবারের মতো কেবল রোবট ও ড্রোন ব্যবহার করেই একটি রুশ অবস্থানে জয়লাভ করেছে ইউক্রেনীয় বাহিনী। চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ইউক্রেনের মানবরহিত এই প্রযুক্তি প্রায় ২২ হাজার মিশনে সফলভাবে অংশ নিয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে চলা জনবলের সংকট এবং পশ্চিমা সহায়তার অনিশ্চয়তার মুখে ইউক্রেন এখন মানবরহিত প্রযুক্তির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এই কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে তারা বিশাল রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের চেষ্টা করছে। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের লক্ষ্য প্রতি মাসে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রুশ সেনাকে নিষ্ক্রিয় করা, যাতে ক্রেমলিনের ওপর চাপ সৃষ্টি করে রুশ সমাজে নতুন করে সেনা নিয়োগের সংকট তৈরি করা যায়। ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা জিসিএইচকিউ-এর নতুন তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধে ইতোমধ্যে রাশিয়ার প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক সৈন্য হতাহত হয়েছেন, যা চলমান এই প্রযুক্তিগত যুদ্ধের তীব্রতাকেই নির্দেশ করে।
