ইজরায়েলের ‘অষ্টম ফ্রন্ট’ ও ভারতের নতুন কৌশল: তথ্যযুদ্ধে কি পাল্টাবে বিশ্ব রাজনীতি? – এবেলা

ইজরায়েলের ‘অষ্টম ফ্রন্ট’ ও ভারতের নতুন কৌশল: তথ্যযুদ্ধে কি পাল্টাবে বিশ্ব রাজনীতি? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

আট নম্বর মোর্চার মোকাবিলায় নতুন বিশ্বজোটের পথে ইজরায়েল!

গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থার বিরুদ্ধে বর্তমানে এক অদৃশ্য কিন্তু শক্তিশালী যুদ্ধের সূচনা হয়েছে। ইন্টারনেট দুনিয়ায় পরিকল্পিত মিথ্যা প্রচার, ভুয়া খবরের বিস্তার এবং হাইব্রিড যুদ্ধের কৌশল ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশের অভ্যন্তরীণ ঐক্য দুর্বল করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এই ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলায় ইজরায়েল এখন ভারত ও আমেরিকার মতো সমমনা দেশগুলোকে নিয়ে একটি বিশেষ আন্তর্জাতিক জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে।

নতুন মোর্চার স্বরূপ ও চ্যালেঞ্জ

ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই সাইবার ও তথ্যযুদ্ধকে ‘আট নম্বর মোর্চা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। বর্তমানে ইজরায়েল গাজা, লেবানন, ইরান ও ইয়েমেনের মতো অঞ্চলে সাতটি সরাসরি বা প্রথাগত সামরিক মোর্চায় লিপ্ত। তবে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে চালানো সুসংগঠিত অপপ্রচার বা ফেক নিউজ ক্যাম্পেইন এখন সরাসরি যুদ্ধের চেয়েও বেশি ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইজরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, এই নেটওয়ার্কগুলোর নেপথ্যে পাকিস্তান, তুরস্ক ও চীনের মতো দেশগুলোর সক্রিয় ইন্ধন রয়েছে, যা পশ্চিমা বিশ্বসহ মিত্র দেশগুলোতে ইজরায়েলবিরোধী জনমত তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে।

ভারত ও বৈশ্বিক জোটের ভূমিকা

তথ্য সুরক্ষার এই লড়াইয়ে ভারত ও ইজরায়েল এখন একে অপরের ঘনিষ্ঠ কৌশলগত অংশীদার। বিশেষ করে ২০২৫ সালের ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর সময় ভারত যে ধরনের পরিকল্পিত সাইবার হামলার মুখে পড়েছিল, তা নয়াদিল্লিকে আরও সতর্ক করেছে। সে সময় চীন, পাকিস্তান ও তুরস্কের মদতপুষ্ট বটস ফার্মগুলো ভারতবিরোধী মিথ্যে বয়ান ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভারত এখন নিজস্ব সাইবার নিরাপত্তা ও তথ্য যাচাইকরণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করছে।

ইজরায়েলের প্রস্তাবিত এই নতুন জোটটি কেবল তথ্যযুদ্ধ নয়, বরং সাইবার নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও একটি নতুন মেরুকরণ তৈরি করবে। এই উদ্যোগে ভারত, আমেরিকা, গ্রিস ও সাইপ্রাসের মতো দেশগুলোর সমন্বয়ে একটি ‘হেক্সাগন অফ অ্যালায়েন্স’ বা ষড়ভুজাকৃতি জোট গড়ে তোলার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই জোট চরমপন্থী শক্তি ও ডিজিটাল হাইব্রিড হুমকির বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী প্রতিরোধ ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভুল তথ্যের প্রচার রোধ করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে গণতান্ত্রিক দেশগুলোর নিরাপত্তা বলয় আরও সুসংহত হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *