ইতিহাসের সবচেয়ে বড় IPO! বিশ্বের প্রথম ‘ট্রিলিয়নেয়ার’ হতে চলেছেন ইলন মাস্ক – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
প্রথম ট্রিলিয়নেয়ার হওয়ার দৌড়ে এলন মাস্ক, মহাকাশে ইতিহাস গড়তে আসছে স্পেসএক্স!
বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি এলন মাস্কের মুকুটে যুক্ত হতে চলেছে আরও একটি নজিরবিহীন পালক। খুব শীঘ্রই তিনি বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নেয়ার (১ ট্রিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৮৩ লাখ কোটি টাকার বেশি সম্পদের মালিক) হওয়ার গৌরব অর্জন করতে পারেন। মাস্কের রকেট এবং স্যাটেলাইট ইন্টারনেট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘স্পেসএক্স’ (SpaceX) শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হতে যাচ্ছে। ওয়াল স্ট্রিটের বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি হতে চলেছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আইপিও (IPO)। সম্প্রতি কো ম্পা নিটি ‘SPCX’ টিকর চিহ্নের অধীনে শেয়ার বাজারে আসার পরিকল্পনা জমা দিয়েছে। বর্তমানে ফোর্বসের ধনকুবেরদের তালিকায় ৮০৭ বিলিয়ন ডলারের নেটওয়ার্থ নিয়ে মাস্ক শীর্ষস্থানে রয়েছেন।
আইপিও-র হাত ধরে মহাজাগতিক লাফ
স্পেসএক্স আইপিও-র জন্য নিজেদের মূল্যায়ন নির্ধারণ করেছে ১.২৫ ট্রিলিয়ন ডলার। এই বিশাল মূল্যায়নের কারণে স্পেসএক্সে মাস্কের যে সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশীদারি রয়েছে, তার মূল্যই দাঁড়াবে ৬০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি। বর্তমানে এই কো ম্পা নিতে মাস্কের ৮৫.১ শতাংশ ভোটিং ক্ষমতা রয়েছে। তাঁর বর্তমান সম্পদ— যার মধ্যে বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলাও অন্তর্ভুক্ত— এবং স্পেসএক্সের এই নতুন মূল্যায়ন একত্রিত হলে মাস্কের মোট নেটওয়ার্থ অনায়াসেই ১ ট্রিলিয়ন ডলারের গণ্ডি ছাড়িয়ে যাবে।
অদ্ভুত বেতন চুক্তি ও মঙ্গলে বসতি স্থাপনের শর্ত
আইপিও ফাইলিং থেকে এলন মাস্কের বেতন এবং মালিকানা সংক্রান্ত কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ২০১৯ সাল থেকে মাস্ক প্রতি বছর মাত্র ৫৪,০৮০ ডলার স্থায়ী মূল বেতন পাচ্ছেন। তবে আসল আকর্ষণ লুকিয়ে রয়েছে তাঁর বোনাস শেয়ারের শর্তে। মাস্ক ১৫টি কিস্তিতে কো ম্পা নির ৬.৬৬ কোটি শেয়ার পেতে পারেন, কিন্তু তার জন্য দুটি অত্যন্ত কঠিন শর্ত পূরণ করতে হবে। প্রথমত, শেয়ার বাজারে স্পেসএক্সের মূল্যায়ন বাড়িয়ে ৭.৫ ট্রিলিয়ন ডলারে নিয়ে যেতে হবে। দ্বিতীয়ত, স্পেসএক্সকে সফলভাবে মঙ্গল গ্রহে কমপক্ষে ১০ লাখ মানুষের একটি স্থায়ী বসতি স্থাপন করতে হবে। এছাড়া, মাস্কের এআই কো ম্পা নি ‘xAI’-এর সাথে একীভূতকরণের পর, বার্ষিক ১০০ টেরাওয়াট কম্পিউটিং ক্ষমতাসম্পন্ন ডেটা সেন্টার চালু করার লক্ষ্য পূরণ হলে তিনি আরও ৩০২ মিলিয়ন নতুন শেয়ার পাবেন।
বিশাল বাজারের সুযোগ ও আর্থিক খতিয়ান
কো ম্পা নিটির ২৭৭ পৃষ্ঠার প্রসপেক্টাস অনুযায়ী, তারা ভবিষ্যতে ২৮.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের এক বিশাল বাজারের সম্ভাবনা দেখছে, যার মধ্যে সিংহভাগই (২৬.৫ ট্রিলিয়ন ডলার) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-ভিত্তিক। স্পেসএক্সের দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গি কেবল রকেট উৎক্ষেপণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং মহাকাশে ভাসমান ডেটা সেন্টার স্থাপন, সৌরশক্তিতে চালিত সুপার-স্মার্ট ‘ট্রুথ-সাকিং এআই’ তৈরি এবং চাঁদ ও মঙ্গলে মানবসভ্যতাকে সম্প্রসারিত করাই এর মূল লক্ষ্য। তবে প্রথমবার সামনে আসা আর্থিক খতিয়ান বলছে, গত বছর স্পেসএক্সের মোট আয় ১৮.৬ বিলিয়ন ডলার হলেও নিট ক্ষতি হয়েছে ৪.৯ বিলিয়ন ডলার। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকেই (Q1) কো ম্পা নিটির আয় ৪.৭ বিলিয়ন ডলার এবং নিট ক্ষতি ৪.৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যার মূল কারণ এআই অবকাঠামো তৈরিতে বিপুল পরিমাণ ব্যয়।
এক ঝলকে
- শেয়ার বাজারে ‘SPCX’ টিকর চিহ্নে বিশ্বের সর্ববৃহৎ আইপিও নিয়ে আসছে এলন মাস্কের স্পেসএক্স।
- ১.২৫ ট্রিলিয়ন ডলারের মূল্যায়নে আইপিও এলে মাস্ক বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নেয়ার বা লক্ষ কোটি ডলারের মালিক হবেন।
- বোনাস শেয়ার পাওয়ার শর্ত হিসেবে মঙ্গল গ্রহে ১০ লাখ মানুষের স্থায়ী বসতি গড়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
- গত বছর কো ম্পা নির আয় ১৮.৬ বিলিয়ন ডলার হলেও এআই অবকাঠামোতে বিপুল খরচের কারণে নিট ক্ষতি হয়েছে ৪.৯ বিলিয়ন ডলার।
