ইতিহাস গড়ল বাংলা! প্রথম দফার ভোটে বুথমুখী মানুষের নজিরবিহীন ঢল – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণে এক অভাবনীয় ও নজিরবিহীন পরিসংখ্যান দেখল পশ্চিমবঙ্গ। ২০১১ সালের উত্তাল পরিবর্তনের বছর বা ২০২১ সালের হাই-ভোল্টেজ নির্বাচনকেও ছাপিয়ে গিয়েছে এবারের ভোটদানের হার। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের ১৫২টি আসনে ভোটদানের হার ৯৩ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছেছে, যা স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে এ রাজ্যে সর্বোচ্চ। এই অভূতপূর্ব ভোটার উপস্থিতি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদেরও চমকে দিয়েছে, কারণ সচরাচর এত বিপুল ভোটদান বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিতবাহী বলেই মনে করা হয়।
এসআইআর ও নাম কাটার আতঙ্ক
এই বিপুল ভোটদানের নেপথ্যে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন বা ‘এসআইআর’। প্রথম দফার আসনগুলিতে প্রায় ৪০ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। নাম কাটার এই তীব্র আতঙ্ক সাধারণ মানুষকে বুথমুখী হতে বাধ্য করেছে। বিশেষ করে পরিযায়ী শ্রমিক অধ্যুষিত জেলাগুলোতে দেখা গিয়েছে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। ভিন রাজ্য থেকে কাজ ফেলে নিজ উদ্যোগে শ্রমিকরা ফিরেছেন শুধুমাত্র ভোটার তালিকায় নিজেদের অস্তিত্ব প্রমাণ করতে। এছাড়া সরকারি পদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যেও এবার ভোট না দিলে নাম কাটা যাওয়ার ভয় কাজ করেছে, যা ভোট শতাংশ বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে।
ভোটের সমীকরণ ও রাজনৈতিক প্রভাব
তাত্ত্বিকভাবে উচ্চ ভোটদান অনেক সময় শাসকবিরোধী হাওয়া বা পরিবর্তনের ডাক হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে বর্তমান প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। তৃণমূলের দাবি, কেন্দ্রের এসআইআর পদ্ধতির কারণে মানুষের যে হয়রানি হয়েছে, ভোটাররা তার বিরুদ্ধেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। অন্যদিকে, বিজেপির যুক্তি হলো, মানুষ রাজ্যে পরিবর্তনের লক্ষে এবং কাজের সন্ধানে আর যাতে বাইরে যেতে না হয়, সেই নিশ্চয়তা পেতেই ভোট দিতে এসেছেন। পরিযায়ী শ্রমিকদের এই বিপুল ভোট কার বাক্সে গিয়েছে—বাঙালি গরিমার পক্ষে নাকি পরিবর্তনের পক্ষে—তা স্পষ্ট হবে আগামী ৪ মে।
বিক্ষিপ্ত অশান্তি ও কমিশনের পর্যবেক্ষণ
রাজ্যের দীর্ঘ নির্বাচনী ইতিহাসের তুলনায় প্রথম দফার এই ভোট গ্রহণকে ‘শান্তিপূর্ণ’ তকমা দিয়েছে কমিশন। তবে মুর্শিদাবাদের ডোমকল, দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জ এবং আসানসোল দক্ষিণে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ ও প্রার্থীদের ওপর হামলার খবর পাওয়া গিয়েছে। বীরভূমের খয়রাশোলে ইভিএম বিভ্রাটে ক্ষুব্ধ জনতা কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করে। এতদসত্ত্বেও রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার অগ্রবাল জানিয়েছেন, বুথের অভ্যন্তরে কোনো বড় গণ্ডগোল হয়নি এবং কোথাও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। সামগ্রিকভাবে, রেকর্ড ভোটদান ২০২৬-এর নির্বাচনী লড়াইকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেল।
এক ঝলকে
- পশ্চিমবঙ্গের প্রথম দফার ১৫২টি আসনে প্রায় ৯৩ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা সর্বকালের রেকর্ড।
- ভোটার তালিকার সংশোধন (এসআইআর)-এ নাম কাটার আতঙ্ক ভোটারদের বুথমুখী করেছে।
- পরিযায়ী শ্রমিক এবং সাধারণ মানুষ নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।
- বিক্ষিপ্ত অশান্তি থাকলেও নির্বাচন কমিশন প্রথম দফার ভোটকে শান্তিপূর্ণ ও সফল বলে দাবি করেছে।
