ইনফোসিস থেকে সোজা পরীক্ষার দায়িত্বে! প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে কোন বড় দায়িত্ব পেলেন নন্দন নিলেকানি? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দেশজুড়ে নিট (NEET-UG) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস এবং ব্যাপক ছাত্র আন্দোলনের জেরে এবার নড়েচড়ে বসল কেন্দ্র সরকার। দেশের গোটা পরীক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্নীতিমুক্ত, স্বচ্ছ এবং আধুনিক করে তুলতে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্ক ফোর্স (Task Force) গঠন করা হয়েছে।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ টাস্ক ফোর্সের নেতৃত্বভার তুলে দেওয়া হয়েছে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তিবিদ তথা ইনফোসিসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা নন্দন নিলেকানির (Nandan Nilekani) হাতে।
কে এই নন্দন নিলেকানি?
নন্দন নিলেকানি হলেন একজন প্রখ্যাত প্রযুক্তিবিদ, পদ্মশ্রী প্রাপক এবং দূরদর্শী উদ্যোক্তা। ১৯৮১ সালে এন. আর. নারায়ণ মূর্তি ও আরও কয়েকজনের সঙ্গে মিলে তিনি ইনফোসিস (Infosys) প্রতিষ্ঠা করেন। ২০০২ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত তিনি এই সংস্থার সিইও (CEO) হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন এবং পরবর্তীতে ২০১৭ সালে নন-এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান হিসেবে পুনরায় যুক্ত হন।
এছাড়াও, ভারত সরকারের আমন্ত্রণে তিনি ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (UIDAI)-এর প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বিশ্বের বৃহত্তম বায়োমেট্রিক প্রকল্পটির সফল রূপায়ণ করেছেন। পাশাপাশি, ইউপিআই (UPI) পেমেন্ট সিস্টেম ও ইন্ডিয়া স্ট্যাকের (India Stack) মতো ডিজিটাল পরিকাঠামো গঠনেও তাঁর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
টাস্ক ফোর্সের অন্যান্য বিশিষ্ট সদস্যবৃন্দ
ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)-র পরীক্ষা পদ্ধতিতে কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে গঠিত এই বহুশাস্ত্রীয় বিশেষজ্ঞ দলে নন্দন নিলেকানি ছাড়াও দেশের আরও বেশ কয়েকজন প্রথিতযশা ব্যক্তিত্বকে রাখা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—
- এস. সোমনাথ (ইসরোর প্রাক্তন চেয়ারম্যান)
- তপন ডেকা
- ভি. কামাকোটি (আইআইটি চেন্নাইয়ের পরিচালক)
- অঙ্কিতা কারওয়াল (প্রাক্তন শিক্ষাসচিব)
- অমৃত লাল মীনা (লজিস্টিক বিশেষজ্ঞ)
টাস্ক ফোর্সের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
এই উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্ক ফোর্সের মূল কাজ হবে দেশের পরীক্ষাপদ্ধতিকে সম্পূর্ণ ত্রুটিহীন করে তোলা। এর প্রধান উদ্দেশ্যগুলির মধ্যে রয়েছে: ১. প্রযুক্তির সর্বাত্মক ব্যবহার: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও উন্নত প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে পরীক্ষার সামগ্রিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা।
২. কাঠামোগত সংস্কার: এনটিএ-র গোটা কার্যপ্রণালীতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা।
৩. বিশ্বাসযোগ্যতা ফেরানো: প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলিকে ছাত্রছাত্রীদের কাছে আরও বেশি নির্ভরযোগ্য ও দুর্নীতিমুক্ত করে তুলতে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ পেশ করা।
