ইবোলা আতঙ্কে কাঁপছে বিশ্ব, আন্তর্জাতিক উড়ানে ভারতের কড়া সুরক্ষাকবচ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
করোনা এবং মাঙ্কিপক্সের রেশ কাটতে না কাটতেই বিশ্বজুড়ে নতুন করে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ঘাতক ‘ইবোলা’ ভাইরাস। ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গো এবং উগান্ডায় এই ভাইরাসের মারাত্মক প্রাদুর্ভাবের জেরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ইতিমধ্যেই এটিকে ‘আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতে যাতে কোনওভাবেই মারণ ভাইরাসের সংক্রমণ প্রবেশ করতে না পারে, তার জন্য সোমবার দেশের অসামরিক বিমান চলাচল নিয়ামক সংস্থা ‘ডিজিসিএ’ (DGCA) সমস্ত উড়ান সংস্থার জন্য অত্যন্ত কড়া ও বাধ্যতামূলক নির্দেশিকা বা এসওপি (SOP) জারি করেছে।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের তৈরি করা স্বাস্থ্য প্রস্তুতি নির্দেশিকা মেনে ডিজিসিএ জানিয়েছে, কঙ্গো ও উগান্ডার সীমান্তবর্তী দেশগুলিতেও এই রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। তাই ভারতের সুরক্ষাকবচ মজবুত করতে এই আগাম পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
যাত্রীদের জন্য স্ব-ঘোষণা ও মাঝআকাশে বিশেষ প্রোটোকল
ডিজিসিএ-র নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, উগান্ডা বা কঙ্গো থেকে সরাসরি কিংবা অন্য কোনও দেশ হয়ে যে সমস্ত বিমান ভারতে আসবে, তাদের ক্ষেত্রে বিশেষ নিয়ম লাগু হচ্ছে। ওই সমস্ত আক্রান্ত দেশ থেকে আসা বা ট্রানজিট নেওয়া সমস্ত যাত্রীকে ভারতে নামার আগে বাধ্যতামূলকভাবে ‘সেলফ-ডিক্লারেশন ফর্ম’ বা স্ব-ঘোষণা পত্র পূরণ করতে হবে। এর পাশাপাশি মাঝআকাশে বিমান ওড়ার সময় উড়ান কর্মীদের ইবোলার লক্ষণ এবং করণীয় সম্পর্কে বিশেষ অ্যানাউন্সমেন্ট করতে বলা হয়েছে। উড়ান চলাকালীন যাত্রীদের জ্বর, চরম ক্লান্তি, পেশিতে ব্যথা, মাথাব্যথা, বমি বা রক্তপাতের মতো লক্ষণ থাকলে তা অবিলম্বে কেবিন ক্রুদের জানাতে হবে। ভারতে পৌঁছনোর ২১ দিনের মধ্যে লক্ষণ দেখা দিলেও বিমানবন্দর স্বাস্থ্য আধিকারিককে (APHO) জানাতে হবে।
যদি উড়ানের মাঝপথে কোনও যাত্রীর শরীরে ইবোলার লক্ষণ স্পষ্ট হয়, তবে সংক্রমণ রুখতে কঠোর ‘ইন-ফ্লাইট প্রোটোকল’ মানতে হবে। আক্রান্ত যাত্রীকে বাকিদের থেকে আলাদা করে বিমানের পেছনের সারিতে সরিয়ে নিয়ে যেতে হবে এবং তাঁর দেখভালের জন্য কেবল একজন নির্দিষ্ট কেবিন ক্রু মেম্বারকে দায়িত্ব দিতে হবে। সম্ভাব্য রোগীর চারপাশের আসন খালি রাখা, পৃথক শৌচাগার বরাদ্দ করা, পিপিই কিট দেওয়া এবং অবতরণের পর পুরো বিমান জীবাণুমুক্ত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ক্রু মেম্বাররা ওই সন্দেহভাজন যাত্রীর বিবরণ বিমানবন্দর স্বাস্থ্য সংস্থার হাতে তুলে দেবেন, যাতে পরবর্তী ২১ দিন তাঁদের ওপর নজর রাখা যায়।
ঝুঁকি এড়াতে পরিকাঠামো ও নজরদারি জোরদার
ডিজিসিএ সমস্ত বিমান সংস্থাকে নির্দেশ দিয়েছে, আন্তর্জাতিক রুটের বিমানগুলিতে যেন পর্যাপ্ত পরিমাণে ফার্স্ট-এইড কিট এবং ইউনিভার্সাল প্রিকশন কিট (মাস্ক, গ্লাভস, স্যানিটাইজার ও বায়ো-হ্যাজার্ড ডিসপোজাল ব্যাগ) মজুত থাকে। একই সঙ্গে ফ্লাইটে এই ধরনের পরিস্থিতি সামলানোর জন্য কর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভারতে এখনও পর্যন্ত ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত কোনও রোগীর খোঁজ মেলেনি। তবে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংকটের জেরে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেশের সামগ্রিক প্রস্তুতি এবং নজরদারি ব্যবস্থার একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক করেছেন। ভারতের সমস্ত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং বন্দরে কড়া থার্মাল স্ক্রিনিং ও নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। আফ্রিকা ফেরত যাত্রীদের ওপর বিশেষ নজর রাখার পাশাপাশি ‘ডিজিটাল ট্র্যাকিং’ এবং ‘গ্রাউন্ড আইসোলেশন’— দুই স্তরেই প্রস্তুতি তুঙ্গে রেখেছে প্রশাসন।
