ইভিএমে কারচুপির অভিযোগে কঠোর কমিশন! ফলতা ও মন্তেশ্বরের বিতর্কিত বুথগুলোতে ফের হতে পারে ভোট – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যে দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে ভোটগ্রহণের হার স্বস্তিদায়ক হলেও বেশ কিছু বুথে ইভিএম কারচুপিকে কেন্দ্র করে দানা বেঁধেছে চরম বিতর্ক। ফলতা, মন্তেশ্বর এবং জলহাটির মতো এলাকায় ইভিএমের নির্দিষ্ট প্রতীকের ওপর সেলোটেপ লাগানো কিংবা কালি লেপে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। ভোটারদের প্রভাবিত করার এই অপচেষ্টাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে নির্বাচন কমিশন। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হবে।
কমিশনের কড়া পদক্ষেপ ও পুনর্নির্বাচনের ইঙ্গিত
অভিযুক্ত বুথগুলোর ওয়েব কাস্টিং ফুটেজ এবং পর্যবেক্ষকদের রিপোর্ট পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করছে কমিশন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট বুথগুলোতে পুনর্নির্বাচন বা রিপোলিং করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের মতে, যেখানে ইভিএমের বোতামে টেপ লাগানো ছিল কিংবা যেখানে বিশেষ সুগন্ধি বা আতর ব্যবহার করে ভোটারদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে, সেই সমস্ত জায়গায় পুনরায় ভোট গ্রহণ করা হতে পারে। আগামী এক-দুই দিনের মধ্যেই এই প্রক্রিয়ার দিনক্ষণ ঘোষণা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রভাব ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
ইভিএমের ওপর সেলোটেপ লাগিয়ে বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করার এই প্রচেষ্টায় জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। মূলত মন্তেশ্বর বিধানসভার ৩৫ নম্বর বুথ এবং ফলতার একাধিক বুথে এই কারচুপির অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে প্রকৃত জনমতের প্রতিফলন ঘটবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তবে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে ভোট সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কমিশনের এই ত্বরিত সিদ্ধান্ত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বিশেষ সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এক ঝলকে
- ইভিএমের বোতামে টেপ লাগানো ও কালি ব্যবহারের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট বুথগুলোতে পুনর্নির্বাচনের ইঙ্গিত দিয়েছে কমিশন।
- ফলতা, মন্তেশ্বর ও জলহাটির বেশ কিছু বুথে ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগ খতিয়ে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।
- ওয়েব কাস্টিং ফুটেজ ও রিপোর্টের ভিত্তিতে অনিয়ম পাওয়া গেলে আগামী কাল বা পরশুই হতে পারে পুনরায় ভোট।
- দ্বিতীয় দফায় বাংলায় ভোট পড়ার হার প্রায় ৯০ শতাংশ হলেও কারচুপির অভিযোগে বিড়ম্বনায় প্রশাসন।
