ইভিএম লুঠ ও বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে মমতার রণংদেহি মেজাজ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের আবহে দ্বিতীয় দফার ভোটের ঠিক আগে ভবানীপুর থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার প্রচারের শেষ লগ্নে তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন বুথে ইভিএম দখলের নীল নকশা তৈরি করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যে একদিকে যেমন নির্বাচনী উত্তাপ বেড়েছে, অন্যদিকে নিরাপত্তা বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিয়েও বড়সড় প্রশ্ন উঠে গিয়েছে।
ইভিএম দখলের চাঞ্চল্যকর কৌশল
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর একাংশের গতিবিধি। তিনি দাবি করেছেন, রাতের অন্ধকারে লোডশেডিং করে এবং কম্বল মুড়ি দিয়ে অপরাধীদের বুথে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। তাঁর মতে, মুখোশ পরে ইভিএম লুঠ করার এক পরিকল্পিত চেষ্টা চলছে যা গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই ঘটনার নেপথ্যে বিজেপির পরাজয়ের ভয় কাজ করছে বলেও তিনি সরাসরি আক্রমণ শানিয়েছেন।
পুলিশ ও প্রশাসনের ওপর চাপ
শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় বাহিনী নয়, স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনের রদবদল নিয়েও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী। একাধিক জেলাশাসক ও পুলিশ আধিকারিককে সরিয়ে দিয়ে বিজেপি নিজেদের অনুকূলে পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে বলে তাঁর দাবি। পুলিশ আধিকারিকদের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দিয়ে তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, নির্বাচনের পর কেন্দ্রীয় বাহিনী চলে গেলেও স্থানীয় প্রশাসনকে এ রাজ্যেই থাকতে হবে, তাই তাদের নিরপেক্ষভাবে কাজ করা উচিত।
ভোটের হারে প্রথম দফায় রেকর্ড তৈরি হলেও দ্বিতীয় দফার আগে এই ধরনের অভিযোগ ভোটারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা এবং ভোট লুঠের আশঙ্কা নিয়ে যে বিতর্ক শুরু হয়েছে, তা আগামী দফায় জনমত ও ভোটদানের পরিবেশের ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এক ঝলকে
- ভবানীপুরের প্রচারসভা থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে অপরাধীদের মদত দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
- লোডশেডিং করে এবং কম্বল ব্যবহার করে ইভিএম লুঠ বা কারচুপির আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
- স্থানীয় পুলিশ ও জেলাশাসকদের রদবদল নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করে আধিকারিকদের নিরপেক্ষ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
- বিজেপি পরাজয়ের ভয়ে প্রশাসনকে ব্যবহার করছে বলে বিস্ফোরক দাবি করেছেন তৃণমূল নেত্রী।
