ইম্পায় ধুন্ধুমার এবং মোতায়েন কেন্দ্রীয় বাহিনী! টলিউডের অন্দরে এবার রাজনৈতিক অস্থিরতার ছায়া

ইম্পায় ধুন্ধুমার এবং মোতায়েন কেন্দ্রীয় বাহিনী! টলিউডের অন্দরে এবার রাজনৈতিক অস্থিরতার ছায়া

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের ঢেউ এবার আছড়ে পড়ল টলিউডের অন্দরে। চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রযোজক সংগঠন ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মোশন পিকচার্স অ্যাসোসিয়েশন (ইম্পা) এখন রণক্ষেত্র। সংগঠনের সভাপতি পিয়া সেনগুপ্তকে ঘিরে শুরু হওয়া বিতর্ক ও বিক্ষোভের জেরে পরিস্থিতি এতটাই হাতের বাইরে চলে যায় যে, শেষ পর্যন্ত আদালতের নির্দেশে সেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে হয়েছে। সোমবার নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর থেকেই এই উত্তেজনার সূত্রপাত, যা বুধবার রাতে চরম আকার ধারণ করে।

সংঘর্ষের মূলে ক্ষমতার লড়াই ও শুদ্ধিকরণ

বিক্ষুব্ধ প্রযোজক ও পরিবেশকদের একাংশের দাবি, ইম্পাকে অবিলম্বে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতে হবে। তাঁদের মূল লক্ষ্য বর্তমান সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত। মঙ্গলবার ইম্পা অফিসের বাইরে বিক্ষোভকারীরা প্রতীকী ‘শুদ্ধিকরণ’ কর্মসূচি পালন করেন, যেখানে গঙ্গাজল ছেটানো হয় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অফিস ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। এই গোষ্ঠীর অভিযোগ, বর্তমান কমিটি নির্বাচিত নয় বরং গায়ের জোরে ক্ষমতা দখল করে আছে। দ্রুত নতুন নির্বাচনের দাবিতে সরব হয়েছেন পরিবেশক শতদীপ সাহার মতো ব্যক্তিত্বরা।

পাল্টা যুক্তি ও প্রশাসনিক কঠোরতা

অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন পিয়া সেনগুপ্ত। তাঁর দাবি, আদালতের নজরদারিতেই বৈধ প্রক্রিয়ায় নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমান কমিটি নিয়ম মেনেই কাজ করছে। বিক্ষোভ সামাল দিতে বৌবাজার থানায় অভিযোগ জানানো হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারির ইঙ্গিত দেয়। শুক্রবার উভয় পক্ষের মধ্যে একটি মীমাংসা বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও, স্টুডিও পাড়ায় টেকনিশিয়ানদের বিক্ষোভ ও ফেডারেশন অফিসে অস্থিরতা নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

প্রভাব ও টলিউডের ভবিষ্যৎ

ইম্পার এই অভ্যন্তরীণ কোন্দলের প্রভাব সরাসরি পড়তে শুরু করেছে চলচ্চিত্র নির্মাণের ওপর। প্রযোজক বিভাগের চেয়ারম্যান ঋতব্রত ভট্টাচার্য স্বাধীনভাবে ছবি তৈরির পরিবেশ নিশ্চিত করার আশ্বাস দিলেও, রাজনৈতিক মেরুকরণ সেই পরিবেশকে নষ্ট করছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। দীর্ঘদিনের এই অচলাবস্থা কাটানো না গেলে শুটিং থেকে শুরু করে সিনেমা মুক্তি—প্রতিটি স্তরেই বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা থাকছে। আপাতত শুক্রবারের বৈঠকের ফলাফলের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা টলিউড।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *