ইয়েমেনে হুথিদের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা: নিহত অন্তত ৩০ সেনা, উত্তপ্ত লোহিত সাগর অঞ্চল – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ইয়েমেনের মধ্যাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় অন্তত ৩০ জন সরকারি সেনা নিহত এবং ৫০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। দেশটির মারিব ও হাদরামুত প্রদেশের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে এই হামলা চালানো হয়। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সংঘাত আরও বাড়ার আশঙ্কা
ইয়েমেনের অভ্যন্তরে সৌদি-সমর্থিত সামরিক অবস্থানগুলোকে লক্ষ্য করে এই হামলায় লোহিত সাগর অঞ্চলের সংঘাত এক বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের অনুগত বাহিনীগুলো একাধিক ঘাঁটিতে হামলার সত্যতা স্বীকার করেছে। উভয় পক্ষই একে অপরকে চরম সতর্কবার্তা দেওয়ায় সংঘাত ব্যাপক আকার ধারণ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হামলা চালানো হয়েছে যেখানে
সরকারি আধিকারিকদের বরাতে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার মারিব ও হাদরামুত প্রদেশের সরকারি ক্যাম্পগুলোকে নিশানা করে এই আকস্মিক হামলা চালানো হয়। তবে ইয়েমেনি সেনা নিহত ও আহতের কথা স্বীকার করলেও নিজস্ব সূত্রে সুনির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা প্রকাশ করেনি।
হুথি নেতার বক্তব্য
হুথি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি জানান, পূর্ব ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর শক্তি বৃদ্ধির জবাবেই তারা এই ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছেন। তার দাবি, এই হামলায় প্রতিপক্ষের বহু সামরিক যানবাহন, অস্ত্রাগার ও ডিপো ভস্মীভূত হয়েছে এবং বহু সেনা হতাহত হয়েছে। একই সাথে সাধারণ মানুষদের সৌদি সেনা অবস্থান থেকে দূরে থাকার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
ইয়েমেনে নিযুক্ত মার্কিন মিশন এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে “ইয়েমেনের সাধারণ মানুষের ওপর হুথিদের চালানো সন্ত্রাসবাদের আরও একটি দৃষ্টান্ত” বলে আখ্যা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানা দখল করার পর থেকেই ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ চলছে। এর জবাবে ২০১৫ সাল থেকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে, যার জল গড়িয়েছে বর্তমান সংঘাত পর্যন্ত।
