ইরাকের মরুভূমিতে ইসরায়েলের গোপন ঘাঁটি! ইরানের ওপর হামলার ছক ফাঁস করল ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল – এবেলা

ইরাকের মরুভূমিতে ইসরায়েলের গোপন ঘাঁটি! ইরানের ওপর হামলার ছক ফাঁস করল ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ইরাকের নির্জন মরুভূমি এলাকায় ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য একটি গোপন সামরিক ঘাঁটি তৈরি করেছিল ইসরায়েল। সম্প্রতি প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই গোপন ঘাঁটিটি মূলত ইরানের অভ্যন্তরে বিশেষ অভিযান এবং বিমান হামলার লজিস্টিক সহায়তা প্রদানের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল।

স্পেশাল ফোর্সের তৎপরতা ও উদ্ধার অভিযান

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঘাঁটিতে ইসরায়েলের বিশেষ কমান্ডো বাহিনী এবং এয়ার অপারেশন ইউনিট মোতায়েন ছিল। মূলত ইরানের ভেতরে কোনো মিশন চলাকালীন ইসরায়েলি বিমান ভূপাতিত হলে বা পাইলট নিখোঁজ হলে তাদের দ্রুত উদ্ধার করার জন্য এখানে ‘সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ’ টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। সম্প্রতি ইরানের ইসফাহানের কাছে একটি মার্কিন F-15 যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর এই ঘাঁটির তৎপরতা আরও বেড়ে যায়। যদিও মার্কিন সেনারা নিজেরাই তাদের পাইলটদের উদ্ধার করতে সক্ষম হয়, তবে সেই প্রক্রিয়া নিরাপদ করতে ইসরায়েল ওই এলাকা থেকে একাধিক বিমান হামলা চালিয়েছিল বলে জানা গেছে।

সতর্ক নজরদারি ও সংঘাতের আশঙ্কা

এই গোপন ঘাঁটির অস্তিত্ব প্রথম নজরে আসে স্থানীয় এক রাখালের মাধ্যমে। মরুভূমিতে সন্দেহজনক হেলিকপ্টার এবং সামরিক গতিবিধি দেখে তিনি ইরাকি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। এরপর ইরাকি সেনাবাহিনী তদন্তের জন্য অগ্রসর হলে ইসরায়েলি বাহিনী তাদের লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায় যাতে ঘাঁটির অবস্থান গোপন থাকে। এই হামলায় একজন ইরাকি সেনা নিহতের ঘটনায় বাগদাদ তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। ইরাকি সামরিক কমান্ডের পক্ষ থেকে এই ঘটনাকে সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন এবং ‘বেপরোয়া পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় প্রভাব

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, এই ঘাঁটির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাবগতি ছিল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার ঠিক আগেই এই স্থাপনাটি সক্রিয় করা হয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হলেও পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। আগামী সপ্তাহে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পুনরায় আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। ১৪ দফার একটি খসড়া চুক্তির ভিত্তিতে এই উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ইরাকের মাটিতে ইসরায়েলের এমন গোপন তৎপরতা আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে নতুন করে অনাস্থা ও অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *