ইরানকে নিশ্চিহ্ন করার চরম হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মেঘ – এবেলা
.jpg.webp)
এবেলা ডেস্কঃ
আরব দুনিয়ার রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার তেহরানকে সরাসরি যুদ্ধের চরম হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইউরেনিয়াম মজুত ও যুদ্ধের ক্ষতিপূরণসহ একাধিক ইস্যুতে আমেরিকা ও ইরানের দ্বিপাক্ষিক আলোচনা যখন কার্যত থমকে গেছে, ঠিক তখনই নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ইরানকে লক্ষ্য করে এই হুমকি দেন ট্রাম্প। রবিবার একটি পোস্টে তিনি লেখেন, “ইরানের জন্য ঘড়ির কাঁটা দ্রুত দৌড়চ্ছে। ওদের উচিত দ্রুত পদক্ষেপ করা। নাহলে ওদের আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। সময়ের গুরুত্বটা ওদের বোঝা উচিত!” ট্রাম্পের এমন বার্তা দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক সংকটকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
শর্তের বেড়াজালে থমকে গেছে পরমাণু আলোচনা
এই সংঘাতের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে দুই দেশের পক্ষ থেকে দেওয়া বিপরীতমুখী ও অত্যন্ত কঠিন কিছু শর্তাবলি। ইরানের সংবাদমাধ্যম ‘ফার্স নিউজ এজেন্সি’র তথ্য অনুযায়ী, হোয়াইট হাউস আলোচনার মূল শর্ত হিসেবে ইরানের ৪০০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সমর্পণ করার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে মাত্র একটি পরমাণু গবেষণা কেন্দ্র সচল রাখা, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণের দাবি ত্যাগ এবং বিদেশে ফ্রিজ হয়ে থাকা ইরানি সম্পদ আপাতত ব্লক রাখার মতো কঠোর শর্ত দেওয়া হয়েছে।
পাল্টা হিসেবে তেহরানও আমেরিকার সামনে পাঁচটি কঠিন শর্ত ছুড়ে দিয়েছে। ইরানের দাবি, লেবাননসহ গোটা আরব দুনিয়ায় মার্কিন সামরিক অভিযান বন্ধ করতে হবে, সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে এবং বিদেশের ব্যাঙ্কে আটকে থাকা ইরানের অর্থ ফেরত দিতে হবে। এর পাশাপাশি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের সার্বভৌমত্বকে আমেরিকার স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিও জানিয়েছে তেহরান। দুই পক্ষের এই অনড় অবস্থানের কারণে আলোচনা এখন পুরোপুরি স্থবির।
পাল্টা তোপ পেজেশকিয়ানের ও হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা
মার্কিন এই চরম চাপের মুখেও মাথা নোয়াতে নারাজ তেহরান। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান অভিযোগ করেছেন, ইজরায়েল ও আমেরিকা মিলিতভাবে ইরানের ভেতরে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে এবং বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীকে মদত দিচ্ছে। পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ইরাক তাদের মাটি ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে দেয়নি বলেই আমেরিকার এই ছক সফল হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বর্তমানে এই সংকটের মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে হরমুজ প্রণালী। ইরান এই আন্তর্জাতিক জলপথে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের ওপর কড়া নজরদারি শুরু করায় বিশ্ব বাণিজ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এর বিপরীতে আমেরিকাও ইরানের বন্দরগুলিতে নৌ-অবরোধ তৈরি করে দেশটির ওপর তীব্র অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
ব্যর্থ মধ্যস্থতা এবং সম্ভাব্য সামরিক প্রভাব
গত এপ্রিলে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী কোনও রাজনৈতিক সমাধান আনতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। ট্রাম্প অবশ্য স্বীকার করেছেন যে, পাকিস্তানের তৎকালীন শীর্ষ নেতৃত্বের অনুরোধ ও সৌজন্য রক্ষার্থেই তারা বোমা বর্ষণ থামিয়েছিলেন।
তবে এই সমঝোতার আড়ালে নতুন সামরিক কৌশলগত বিতর্ক দানা বেঁধেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের দাবি, যুদ্ধবিরতির সুযোগ নিয়ে ইরান তাদের বেশ কিছু যুদ্ধবিমান ও নজরদারি বিমান পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডির একটি বিমানঘাঁটিতে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে ফেলেছে। ওয়াশিংটন ও তেহরান— উভয় পক্ষই একে অপরের প্রস্তাব একযোগে নাকচ করে দেওয়ায় আরব দুনিয়ায় নতুন করে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। এখন ট্রাম্পের এই ‘চরম হুঁশিয়ারি’ তেহরানকে আলোচনার টেবিলে ফেরাতে বাধ্য করে, নাকি পরিস্থিতিকে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
