ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র রুখতে অর্ধেক THAAD শেষ আমেরিকার! ইজরায়েলকে বাঁচাতে দ্বিগুণ ইন্টারসেপ্টর দেগেছে পেন্টাগন: বড় তথ্য ফাঁস – এবেলা

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র রুখতে অর্ধেক THAAD শেষ আমেরিকার! ইজরায়েলকে বাঁচাতে দ্বিগুণ ইন্টারসেপ্টর দেগেছে পেন্টাগন: বড় তথ্য ফাঁস – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ইজরায়েলকে বাঁচাতে গিয়ে ফুরিয়ে আসছে আমেরিকার অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার!

মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় ইজরায়েলকে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের হাত থেকে রক্ষা করতে গিয়ে আমেরিকা তার অন্যতম প্রধান বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাড (THAAD)-এর প্রায় অর্ধেক ভাণ্ডার খালি করে ফেলেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর একটি চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে এই তথ্য ফাঁস হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইজরায়েলকে সুরক্ষিত রাখতে ওয়াশিংটন ২০০টিরও বেশি থাড ইন্টারसेप्टর ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যা পেন্টাগনের মোট মজুতের প্রায় অর্ধেক। আমেরিকার এই বিপুল সামরিক সহায়তার বিপরীতে ইজরায়েল নিজে তার নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থেকে তুলনামূলকভাবে অনেক কম ব্যবহার করেছে।

যুদ্ধকৌশলে আসাম বণ্টন ও আকাশ সুরক্ষার খরচ

প্রতিবেদনে জানা গেছে, পূর্ব ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ থেকেও ১০০টির বেশি স্ট্যান্ডার্ড মিসাইল-৩ এবং স্ট্যান্ডার্ড মিসাইল-৬ ইন্টারसेप्टর নিক্ষেপ করা হয়েছিল। এর বিপরীতে ইজরায়েল নিজে ১০০টিরও কম ‘অ্যারো’ এবং প্রায় ৯০টি ‘ডেভিডস স্লিং’ ইন্টারसेप्टর ব্যবহার করেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের হিসাব অনুযায়ী, ইরানি হামলা ঠেকাতে আমেরিকার সামরিক বাহিনীকে ইজরায়েলের চেয়ে দ্বিগুণ বেশি সক্রিয় ভূমিকা নিতে হয়েছে এবং প্রায় ১২০টি বেশি ইন্টারसेप्टর ছুড়তে হয়েছে। ইজরায়েলের ব্যবহৃত কিছু ক্ষেপণাস্ত্র লেবানন ও ইয়েমেন থেকে আসা কম শক্তিশালী হামলা রুখতেও খরচ হয়েছে।

ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ঝুঁকি ও সামরিক সংকট

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান লক্ষ্য করে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হয়েছিল, যার জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্রদের ওপর পালটা হামলা চালায়। গত ৮ এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকায় আপাতত সংঘাত থামলেও, আমেরিকার সামরিক সক্ষমতা এখন বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে। পেন্টাগনের খালি হতে যাওয়া এই ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত নতুন করে তৈরি করা বেশ সময়সাপেক্ষ। বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে যদি কোনো কারণে এই যুদ্ধবিরতি ভেঙে যায় এবং আমেরিকার নতুন প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে আবার সামরিক পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেয়, তবে মার্কিন বাহিনীর পক্ষে পর্যাপ্ত ক্ষেপণাস্ত্রের জোগান দেওয়া এবং নিজেদের বিশ্বব্যাপী সামরিক ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।

এক ঝলকে

  • ইজরায়েলকে রক্ষা করতে গিয়ে আমেরিকা তার অত্যাধুনিক থাড (THAAD) ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের প্রায় অর্ধেক অংশ ব্যবহার করে ফেলেছে।
  • সংঘাতের সময় পেন্টাগনের মোট মজুত থেকে ২০০টিরও বেশি থাড ইন্টারसेप्टর এবং নৌজাহাজ থেকে আরও ১০০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে।
  • ইজরায়েল নিজে মার্কিন বাহিনীর তুলনায় অর্ধেক ইন্টারसेप्टর ব্যবহার করেছে, যার মধ্যে ছিল ১০০টির কম ‘অ্যারো’ এবং ৯০টি ‘ডেভিডস স্লিং’।
  • গত ৮ এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতি চললেও, ক্ষেপণাস্ত্রের তীব্র ঘাটতি ভবিষ্যতে আমেরিকার নতুন সামরিক অভিযানের সক্ষমতাকে বড় ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *