ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে কেন বারবার বিদ্ধ হলো দুবাই ও আবুধাবি! – এবেলা

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে কেন বারবার বিদ্ধ হলো দুবাই ও আবুধাবি! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার সাম্প্রতিক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দুবাই ও আবুধাবি শহরগুলো সবচেয়ে বেশি হামলার শিকার হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-এর একটি চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, এই উত্তেজনার মূলে ছিল ইসরায়েলের সাথে আমিরাতের নজিরবিহীন সামরিক ও গোয়েন্দা ঘনিষ্ঠতা। ২০২০ সালে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পর থেকে দুই দেশের কৌশলগত সমীকরণ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, যুদ্ধে আমিরাত কার্যত ইসরায়েলের প্রধান সামরিক অংশীদারে পরিণত হয়েছে।

আমিরাতের মাটিতে ইসরায়েলি সেনার উপস্থিতি

যুদ্ধের সময় আরব আমিরাতকে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে রক্ষা করতে ইসরায়েল সেখানে তাদের অত্যাধুনিক ‘আয়রন ডোম’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছিল। শুধু প্রযুক্তি নয়, এই ব্যবস্থা পরিচালনার জন্য খোদ ইসরায়েলি সেনারা দুবাই ও আবুধাবিতে অবস্থান নিয়েছিল বলে প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে। আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদের সাথে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরাসরি আলোচনার পরেই এই গোপনীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়। রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়া সত্ত্বেও যুদ্ধের ভয়াবহতা আমিরাতের মাটিতে ইসরায়েলি বাহিনীর সক্রিয় কার্যক্রমের পথ প্রশস্ত করে দেয়।

হামলার কারণ ও কৌশলগত প্রভাব

ইরানের পক্ষ থেকে প্রায় ৫৫০টি ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ মিসাইল এবং ২২০০-এর বেশি ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল আমিরাত। এর প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, আমিরাত তার ভূখণ্ড থেকে ইরানবিরোধী অভিযানের জন্য ইসরায়েল ও আমেরিকাকে সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছিল। পাল্টাপাল্টি হিসেবে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী দক্ষিণ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালিয়ে আমিরাতগামী হুমকিগুলো প্রশমনের চেষ্টা চালায়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতির ফলে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে ইসরায়েলের প্রভাব আরও দীর্ঘস্থায়ী ও শক্তিশালী রূপ নিল, যা আঞ্চলিক সমীকরণকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে।

এক ঝলকে

  • ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে আমিরাতের দুবাই ও আবুধাবি শহরগুলো ইরানের প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।
  • আমিরাতকে সুরক্ষায় প্রথমবারের মতো সেখানে ইসরায়েলের আয়রন ডোম এবং ইসরায়েলি সেনা মোতায়েন করা হয়েছিল।
  • ইরান প্রায় ৫৫০টি মিসাইল ও ২,২০০টির বেশি ড্রোন দিয়ে আমিরাতের বিভিন্ন স্থাপনায় আক্রমণ চালায়।
  • ইসরায়েল ও আমেরিকার সাথে আমিরাতের ক্রমবর্ধমান সামরিক ও গোয়েন্দা অংশীদারিত্বই এই হামলার মূল কারণ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *