ঈশ্বরের সেবা করেও খালি পকেট! পুরোহিতদের অধিকারের লড়াই এবার সুপ্রিম কোর্টে – এবেলা

ঈশ্বরের সেবা করেও খালি পকেট! পুরোহিতদের অধিকারের লড়াই এবার সুপ্রিম কোর্টে – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

দেশজুড়ে সরকারি নিয়ন্ত্রণে থাকা মন্দিরগুলোর পুজারী ও কর্মচারীদের বছরের পর বছর ধরে চলা আর্থিক অবহেলা ও দুর্দশার অবসান ঘটাতে এবার হস্তক্ষেপ করতে যাচ্ছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। মন্দিরে ধর্মীয় সেবা দিয়েও চরম অনটন ও সামাজিক নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা পুজারী ও সেবায়েতদের অধিকার রক্ষায় সুপ্রিম কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চে সোমবার এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টির শুনানি হতে যাচ্ছে, যা লাখ লাখ মন্দির কর্মীর ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারে।

অধিকার ও প্রাতিষ্ঠানিক বঞ্চনার অভিযোগ

আইনজীবী অশ্বিনী উপাধ্যায়ের দায়ের করা এই আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে যে, সরকার মন্দিরগুলোর প্রশাসনিক ও আর্থিক নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিলেও সেখানে কর্মরত পুজারীদের স্বার্থ সম্পূর্ণ উপেক্ষা করছে। বহু রাজ্যে পুজারীরা অদক্ষ শ্রমিকদের চেয়েও কম পারিশ্রমিক পাচ্ছেন, যা সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মর্যাদাপূর্ণ জীবনধারণের অধিকারের চরম লঙ্ঘন। উত্তরপ্রদেশের কাশী বিশ্বনাথ মন্দির থেকে শুরু করে অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলঙ্গানার মতো রাজ্যগুলোতেও পুজারীদের বেতন কাঠামো নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে। তদুপরি, তামিলনাড়ুর মতো কিছু রাজ্যে ভক্তদের দেওয়া দক্ষিণার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের চেষ্টা পুজারীদের জীবনযাত্রাকে আরও সংকটে ফেলেছে, কারণ অনেক মন্দিরে স্থায়ী কোনো বেতন ব্যবস্থা নেই।

সরকারি কর্মচারীর মর্যাদা ও স্থায়ী নীতিমালার দাবি

এই আইনি লড়াইয়ের মূল লক্ষ্য হলো পুজারী ও সেবায়েতদের ‘বেতন কোড ২০১৯’-এর অধীনে আনুষ্ঠানিক ‘কর্মচারী’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া। মামলায় কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলোকে একটি বিচার বিভাগীয় কমিশন বা বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে, যা পুজারীদের ন্যূনতম বেতন, ভাতা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। এই আইনি পদক্ষেপের ফলে সরকার যদি মন্দির কর্মচারীদের অনুকূলে নীতিমালা তৈরি করতে বাধ্য হয়, তবে তা পুজারীদের পেশাগত মর্যাদা বৃদ্ধি করবে এবং তাদের দীর্ঘদিনের আর্থিক অনিশ্চয়তা দূর করে একটি সুরক্ষিত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারবে।

এক ঝলকে

  • মন্দিরের পুজারী ও কর্মচারীদের ন্যূনতম বেতন এবং সামাজিক সুরক্ষার দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছে।
  • সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বিক্রম নাথ ও বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চে এই মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
  • আবেদনে পুজারীদের ‘বেতন কোড ২০১৯’ অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীর মর্যাদা ও নির্দিষ্ট বেতন কাঠামো দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
  • দক্ষিণার ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির কারণে পুজারীদের জীবনযাত্রার মান চরম সংকটে পড়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *