উত্তরবঙ্গের রথীন্দ্রনাথই বিধানসভার স্পিকার, বড় চমক দিচ্ছে বিজেপি সরকার – এবেলা

উত্তরবঙ্গের রথীন্দ্রনাথই বিধানসভার স্পিকার, বড় চমক দিচ্ছে বিজেপি সরকার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিমবঙ্গের নবগঠিত বিজেপি সরকারে স্পিকার পদের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে উত্তরবঙ্গের ভূমিপুত্র রথীন্দ্রনাথ বসুকে। কোচবিহার দক্ষিণের নবনির্বাচিত বিধায়ক তথা আরএসএস ঘনিষ্ঠ এই প্রবীণ নেতাকে স্পিকার পদপ্রার্থী হিসেবে মনোনীত করার মধ্য দিয়ে উত্তরবঙ্গকে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দিল শাসক দল। আগামী শুক্রবার বিধানসভায় স্পিকার পদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই প্রথম রাজ্যের বিধানসভায় উত্তরবঙ্গের কোনো নেতাকে অধ্যক্ষের আসনে বসানো হচ্ছে, যা সংসদীয় রাজনীতির ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সমাজমাধ্যমে রথীন্দ্রনাথ বসুর নাম ঘোষণা করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি আশাপ্রকাশ করেছেন যে, রথীন্দ্রনাথ বসু সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচিত হবেন। পরিষদীয় রাজনীতিতে নবীন হলেও রথীন্দ্রনাথ বসু একজন দক্ষ সংগঠক এবং পেশায় চাটার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট। দীর্ঘকাল শিলিগুড়িতে আরএসএস ও বিজেপির সাংগঠনিক দায়িত্ব সামলানোর পর ২০২৬ সালের নির্বাচনে তিনি তৃণমূল প্রার্থীকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করে প্রথমবার বিধায়ক হন।

উত্তরের গুরুত্ব ও রাজনৈতিক সমীকরণ

রথীন্দ্রনাথ বসুকে স্পিকার পদের জন্য মনোনীত করার পেছনে উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক গুরুত্ব এবং তাঁর স্বচ্ছ ভাবমূর্তিকে মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গ বিজেপিকে দুহাত ভরে সমর্থন দিয়েছে, তাই সেই অঞ্চলের প্রতিনিধিকে বিধানসভার অভিভাবক করা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত কৌশলী পদক্ষেপ। রথীন্দ্রনাথ বসু বিজেপির রাজ্য সহ-সভাপতি এবং উত্তরবঙ্গের আহ্বায়ক হিসেবে কাজ করেছেন। তাঁর এই সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং বাগ্মিতা সংসদীয় কার্যপরিচালনায় সহায়ক হবে বলে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করছেন।

গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি

মনোনীত হওয়ার পর রথীন্দ্রনাথ বসু জানিয়েছেন, দল তাঁকে যে দায়িত্ব দিচ্ছে তা তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করবেন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, বিধানসভার কার্যপ্রণালীতে বড়সড় পরিবর্তন আসতে পারে। তাঁর মতে, পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে বিরোধীদের মত প্রকাশের সুযোগ সীমিত ছিল, কিন্তু নতুন সরকার গণতন্ত্রে বিশ্বাসী এবং বিধানসভায় সব পক্ষের আলোচনার পরিসর অটুট রাখা হবে।

নিয়ম অনুযায়ী, প্রোটেম স্পিকারের উপস্থিতিতে বিধায়কদের শপথ গ্রহণ শেষে স্পিকার নির্বাচন হবে। যদি বিরোধী পক্ষ থেকে কোনো পাল্টা প্রার্থী না দেওয়া হয়, তবে রথীন্দ্রনাথ বসু বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হবেন। অভিজ্ঞ মহলের মতে, তাঁর মতো একজন শিক্ষিত ও শান্ত স্বভাবের মানুষকে স্পিকার মনোনীত করার ফলে বিধানসভার অধিবেশনে শৃঙ্খলা বজায় রাখা সহজ হবে। এর ফলে সরকারের প্রশাসনিক ও নীতিগত সিদ্ধান্তে উত্তরবঙ্গের অভাব-অভিযোগগুলিও বিশেষ মর্যাদা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *