উত্তাল পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর, সংঘাতের আবহে এবার একাধিক দেশের ট্রাভেল অ্যাডভাইসারি – এবেলা

উত্তাল পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর, সংঘাতের আবহে এবার একাধিক দেশের ট্রাভেল অ্যাডভাইসারি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) পাকিস্তানি সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর তীব্র দমন-পীড়নকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি রাওয়ালকোটে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত এক আন্দোলনকারীর শেষ শ্রদ্ধার সমাবেশে পাকিস্তানি বাহিনীর নতুন করে সহিংস হামলার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার পর পুরো অঞ্চল জুড়ে ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে, যার জেরে ব্যাপক প্রাণহানির খবরও সামনে আসছে।

পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক যে, আন্তর্জাতিক মহলেও এর তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যেই কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া তাদের নাগরিকদের জন্য পিওকে সফরে ‘ট্রাভেল অ্যাডভাইসারি’ বা ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে। পাশাপাশি ইসলামাবাদে থাকা মার্কিন দূতাবাসও তাদের নাগরিকদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে। অন্যদিকে, স্থানীয় প্রশাসন ৫ জুন থেকে ২০ জুন পর্যন্ত পর্যটনের ক্ষেত্রে কঠোর সতর্কতা জারি করেছে।

তীব্র সংঘাত ও গণগ্রেফতারের জের

স্থানীয় আন্দোলনকর্মী ও জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটির (জেএএসি) নেতাদের দাবি, সাম্প্রতিক দমন-পীড়নে অন্তত ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। যদিও পাকিস্তানের মানবাধিকার সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চার পুলিশ কর্মকর্তাসহ ১১ জন নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার নামে গত চার দিনে অঞ্চলজুড়ে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩৫০ জন বাসিন্দাকে আটক করা হয়েছে। সিল করে দেওয়া হয়েছে জেএএসির কেন্দ্রীয় কার্যালয় এবং দলের একাধিক সদস্যের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বিক্ষোভের মূল কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই তীব্র অসন্তোষের মূল কারণ দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য। স্থানীয় সূত্রের খবর, সম্পদের শোষণ, লাগামহীন মুদ্রাস্ফীতি, বেকারত্ব, বিদ্যুতের তীব্র ঘাটতি এবং ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার প্রতিবাদে দীর্ঘদিন ধরেই সরব ছিল জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি। তার ওপর দলটির নেতাদের ওপর ধারাবাহিক হামলা পরিস্থিতিকে আরও উসকে দেয়। এর জবাবে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নামলে পাকিস্তানি রেঞ্জার ও ফেডারেল পুলিশ মোতায়েন করে কঠোর দমননীতি নীতি গ্রহণ করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংঘাতের ফলে অঞ্চলটির অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড পুরোপুরি ভেঙে পড়তে পারে। বিশেষ করে পর্যটন মৌসুমে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ায় বড়সড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে পিওকে। একই সাথে, আন্তর্জাতিক স্তরে ট্রাভেল অ্যাডভাইসারি জারির ফলে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও মানবাধিকার রেকর্ড নিয়ে বিশ্বমঞ্চে নতুন করে চাপ সৃষ্টি হবে। বর্তমানে মুজাফ্ফরাবাদসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় পাকিস্তানি রেঞ্জার মোতায়েন থাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *