‘উনি ছোট থেকে বড় করেছেন’, কল্যাণের ক্ষোভের উত্তরে বিনয়ী অভিষেক! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
সই জাল মামলায় আইনজীবী হিসেবে সরে দাঁড়িয়ে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন প্রবীণ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘হয় দলে অভিষেক থাকবেন, নয়তো আমি’, এমন চরম হুঁশিয়ারির ২৪ ঘণ্টা পর অবশেষে মুখ খুললেন অভিষেক। তবে প্রবীণ সাংসদের এই নজিরবিহীন আক্রমণের জবাবে পালটা কোনও তোপ দাগেননি তিনি, বরং দেখিয়েছেন সৌজন্য ও শ্রদ্ধা।
কল্যাণের ক্ষোভ ও অভিষেকের সৌজন্য
শুক্রবার সিআইডি নোটিস ও হাজিরা ঘিরে উত্তেজনার মাঝেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য প্রসঙ্গে অভিষেক জানান, প্রবীণ সাংসদের তাঁকে কটূ কথা বলার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। কারণ, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে ছোট থেকে বড় করেছেন। তাঁর প্রতি মনে কোনও ক্ষোভ নেই জানিয়ে অভিষেক স্পষ্ট করেন, তিনি আগে যেমন প্রবীণ এই নেতাকে সম্মান করতেন, এখনও তেমনই করেন। অভিভাবক সম কল্যাণের সমালোচনাকে নিতান্তই তাঁর অধিকারবোধ হিসেবে দেখছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।
দলের মুষলপর্ব ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব
বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেস চরম অন্তর্কলহ ও ভাঙনের মুখে দাঁড়িয়ে। একদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ৬৪ জন বিধায়ক নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ দাবি করে বিরোধী দলের তকমা ছিনিয়ে নেওয়ার আইনি লড়াই চালাচ্ছেন, অন্যদিকে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে ২০ জন সাংসদ দলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে এনডিএ-কে সমর্থনের ঘোষণা করেছেন। দলের এই কঠিন পরিস্থিতিতে প্রবীণ-নবীন সংঘাত শীর্ষ নেতৃত্বের অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে তুলেছিল। এই রাজনৈতিক ডামাডোলের মাঝে অভিষেকের শান্ত ও পরিণত প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ঘরোয়া কোন্দলে জল ঢেলে তিনি বুঝিয়ে দিলেন, এটি দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এর ফলে দলের অন্দরের ফাটল জনসমক্ষে আরও চওড়া হওয়া থেকে সাময়িকভাবে রোখা গেল এবং বিরোধীদের জল্পনাতেও কিছুটা রাশ টানা সম্ভব হল।
