উন্নয়ন আর নিরপেক্ষতার টান? ‘সংখ্যালঘুরা বাড়িয়েছেন বন্ধুত্বের হাত’, রেজিনগর-নন্দীগ্রাম জয়ে দাবি শুভেন্দুর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মেদিনীপুর ও মুর্শিদাবাদ: উপনির্বাচনের ফল প্রকাশ হতেই রাজ্য রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য। নন্দীগ্রামের পাশাপাশি প্রায় ৭০ শতাংশ মুসলিম ভোটার-অধ্যুষিত রেজিনগরে বিজেপির বিপুল জয় ঘিরে এখন সরগরম রাজ্য রাজনীতির অলিন্দ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, বিভাজনের রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করে উন্নয়ন ও নিরপেক্ষতার তাগিদেই সংখ্যালঘু ভোটারেরা সরকারের বাড়িয়ে দেওয়া ‘বন্ধুত্বের হাত’ ধরেছেন। যদিও বিরোধী শিবিরের মতে, এই ফলাফল কোনোভাবেই জনমতের প্রতিফলন নয়, বরং জয়ের নেপথ্যে রয়েছে ‘ভোটলুট ও নির্বাচনের প্রহসন’।
রেকর্ড ব্যবধানে জয় নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে যে রেজিনগর একসময় তৃণমূলের অন্যতম নিরাপদ দুর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল, সেই আসনে বিজেপির প্রার্থী শাখারভ সরকার ৭০ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়ে রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। অন্যদিকে, নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ পান ১ লক্ষ ৬৪ হাজার ৪২৭টি ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেসের মিলন প্রধান পেয়েছেন ৪১ হাজার ৬৭৪টি ভোট। ফলতার পুরনো রেকর্ড ভেঙে নন্দীগ্রামে ১ লক্ষ ২২ হাজার ৭৫৩ ভোটের রেকর্ড ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে বিজেপি।
‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ ও শুভেন্দুর অঙ্ক ফলাফল স্পষ্ট হতেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধাভোগী মহিলারা সপরিবারে বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন। শুভেন্দুর হিসাব অনুযায়ী, নন্দীগ্রামের ৭০ হাজার ৩০০ এবং রেজিনগরের প্রায় ৭০ হাজার অন্নপূর্ণা প্রাপক মহিলা এই জয়ের কারিগর। বিশেষ করে রেজিনগরের প্রায় ৩৫ হাজার সংখ্যালঘু মুসলিম পরিবারের সমর্থনেই এই জয় সম্ভব হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিরোধীদের প্রচারকে নিশানা করে তিনি বলেন, “ভোটের আগে যাঁরা বলেছিলেন বিজেপি এলে ধর্মপালনে বাধা দেওয়া হবে বা বাংলাদেশে পাঠানো হবে, তাঁদের মিথ্যাচার গত পাঁচ মাসে প্রমাণিত হয়ে গিয়েছে। তাই মানুষ মূলস্রোতে ফিরে সরকারের সঙ্গে বন্ধুত্ব করেছেন।”
হুমায়ুন কবীরের ক্ষোভ ও রাজনীতি ত্যাগের ঘোষণা গত বিধানসভা নির্বাচনে রেজিনগরে বাবরি মসজিদ ইস্যুকে সামনে রেখে জয়ী হয়েছিলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (এজেইউপি) নেতা হুমায়ুন কবীর। কিন্তু এবারের উপনির্বাচনে তাঁর পুত্র গোলাম নবি আজাদ লড়াইয়ে কোনো দাগই কাটতে পারেননি। দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতারি এবং প্রচারের অচলাবস্থার পর ভোটের দিন কান্নায় ভেঙে পড়ে রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দেন হুমায়ুন। তাঁর অভিযোগ, “শুভেন্দু কথা দিয়ে কথা রাখেননি।” নবান্নে ডেকে আশ্বাস দিলেও সেই কথা রাখা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি, যদিও এই প্রসঙ্গে শুভেন্দু নিজে মুখ খোলেননি।
বিরোধীদের একজোটে কটাক্ষ বিজেপির এই বিশাল জয়কে মানতে নারাজ বিরোধী শিবির। তৃণমূল বিধায়ক আলিফা আহমেদ এবং বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগ, রেজিনগরে উপনির্বাচনের নামে প্রহসন হয়েছে এবং জোর করে ভোট ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। একই সুর প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের গলাতেও; তিনি এই ঘটনাকে ‘ভোটলুট’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তবে ব্যতিক্রমী ভঙ্গিতে ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় রাজনৈতিক শিষ্টাচার বজায় রেখে বিজয়ী বিজেপি শিবিরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
